এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট থেকে ::
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেরবিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্যের আধার বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনেরবাগেরহাটের মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) ‘জিনলাইট বাংলাদেশ’ নামের একটি বিদেশি গার্মেন্টস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে কারখানার এক নম্বর প্লান্টের সপ্তম তলায় এ আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েক হাজার শ্রমিক দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে কারখানা থেকে বেরিয়ে আসায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুনে কারখানার বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক, আমদানিকৃত মালামাল, সুতা ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কারখানা সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার দুপুরে জিনলাইট বাংলাদেশ কারখানায় কয়েক হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করছিলেন। দুপুরের দিকে হঠাৎ কারখানার এক নম্বর প্লান্টের সপ্তম তলার এক কোণ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা দিলে কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় কারখানার অগ্নিসংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠে। সাইরেনের শব্দ পেয়ে শ্রমিকরা কোনো ধরনের হুড়োহুড়ি না করে দ্রুত ও সতর্কতার সঙ্গে ভবন থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে তারা কারখানার সামনের সড়কে অবস্থান নেন।
খবর পেয়ে মোংলা ইপিজেড ও মোংলা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। কারখানার নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
মোংলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. এমরান হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শ্রমিকরা দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কারখানার নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৯০ শতাংশ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল। সপ্তম তলায় আগুন লাগার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে আগুনে কারখানার কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।