• শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪০ অপরাহ্ন

আরেক দফা ব্যায় বেড়েছে ভোক্তাদের

বাণিজ্য ডেস্ক / ১ Time View
Update : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬

আমদানির অনুমতি দিয়েও কাঁচা মরিচের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি সরকার। ৩০০ টাকা কেজিতেই বিক্রি হচ্ছে মরিচ। একই সময়ে অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের দামও বেড়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর বাজাগুলোতে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দামে রেকর্ড ছোঁয়া পরিস্থিতি। মানুষের আয় না বাড়লেও ব্যায়ের বোঝায় নতজানু অবস্থা।

ব্যবসায়ীদের দাবি, সীমিত সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং পাইকারি বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে খুচরা পর্যায়ে দাম কমছে না। ভোক্তাদের প্রশ্ন, আমদানির পরও যদি বাজারে দামের লাগাম টানা না যায়, তাহলে কি ভাবে দাম কমবে। এমন পরিস্থিতিতে বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরো জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজারের এ চিত্র দেখা যায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার কাঁচামরিচের আমদানির অনুমতি দিলেও শুল্কের হার অনেক বেশি। পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারে দামের প্রভাব কম পড়েছে। তাদের আশা, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কাঁচামরিচের দাম খুচরা পর্যায়ে সহনশীল পর্যায়ে চলে আসবে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে মুরগি ও ডিমের সরবরাহ চাহিদা তুলনামূলক কম। বৃষ্টির কারণে বাজারে অধিকাংশ সবজি ও মাছের দাম বাড়তি থাকায় ডিম ও মুরগির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই দুটি পণ্যের দাম বেড়েছে বলে জানান তারা।

এদিকে, বাজারে এখন অন্যান্য প্রায় সবজির দাম ১০০ টাকার উপরে। এখন বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থাকে ১২০ টাকা কেজিতে। দেশি শসা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, গাজর (দেশি) ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০ টাকা থেকে ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, টমেটো মানভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ধুন্দুল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, প্রতি পিস জালি কুমড়া ও লাউ আকারভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে বেড়েছে ডিম-মুরগির দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে মুরগির দাম। এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ১৭০ থেকে ১৮০ টাক।

সোনালি মুরগির দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত সপ্তাহে আকারভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৭০ টাকায়। গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়।

এছাড়া গত দুই সপ্তাহ আগে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির বাদামি ডিমের দাম ছিল ১২০ টাকা। এখন প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। আবার কোনো কোনো বাজারে ১৬০ টাকাও ডজন রাখছে। এই হিসেবে প্রতি হালি ডিমের দাম এখন ৫০ টাকা বা তারও বেশি।

মুদি বাজারে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল রয়েছে। এখন প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, রসুন (দেশি) ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, দেশি আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরবরাহ কম থাকায় কারণে গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় আকার ও জাতভেদে অধিকাংশ মাছের দাম কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বাজারে আকারভেদে চাষের রুই বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, আকারভেদে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আকারভেদে দেশি শিং ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, মলা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, টেংরা ৬০০টাকা, আকারভেদে রূপচাঁদা ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা, বোয়াল আকার অনুযায়ী ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং একই সাইজের চট্টগ্রামের ইলিশ ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বাড়ার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর। বাজারে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দেখে হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। অন্যদিকে, বিক্রেতাদের দাবি, বাড়তি দামে পণ্য কিনে আনতে হওয়ায় তারাও বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করেই ভোক্তার বলেন, মাসের শুরুতেই বেতনের অর্ধেক চলে যায় বাসা ভাড়া আর বাচ্চাদের স্কুলের খরচে। বাকি টাকা দিয়ে কোনো রকমে বাজার করতাম। এখন বাজারে এসে মনে হয়, টাকার আর কোনো মূল্যই নেই। ডিম, মুরগি, মাছ, কাঁচামরিচ সবকিছুর দাম একসঙ্গে বেড়ে গেছে। আগে সপ্তাহে দুই কেজি মুরগি কিনতাম, এখন এক কেজি কিনতেও ভাবতে হয়। ছেলেমেয়েরা ভালো খাবার চাইলে তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে চুপ করে থাকি। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে দাম বৃদ্ধির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category