২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজ খেলতে গিয়ে প্রস্ততি ম্যাচে চাপে পড়ে টাইগার ব্যাটাররা। শুরুটা হতাশার হলেও শেষ পর্যন্ত শক্ত হাতে বোলারদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাটিংওর্ডার সামাল দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই ব্যাটারের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে এনে দিলেন সম্মানজনক সংগ্রহ। এরপর বল হাতেও দারুণ সূচনা করেছেন সফরকারীরা।
ডারউইনের মারারা ওভালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ২৬৩ রানে।
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ছিল একেবারেই নড়বড়ে। দলীয় ৭ রানেই সাজঘরে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। এরপর শাদমান ইসলাম ৩১ ও মুমিনুল হক ১৬ রান করলেও কেউ ইনিংস বড় করতে পারেননি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৩৭ রানের সম্ভাবনাময় ইনিংস খেলেও থেমে যান, আর মুশফিকুর রহিম ফেরেন রানের খাতা না খুলেই। অমিত হাসানও দীর্ঘ সময় ক্রিজে থেকে করেন ১৫ রান।
১১০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে সেখান থেকে টেনে তোলেন মিরাজ। প্রথমে সৌম্য সরকারের সঙ্গে জুটি গড়ে চাপ সামলান, এরপর লোয়ার অর্ডারকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে নেন ইনিংস। তাইজুল ইসলাম, খালেদ আহমেদ ও হাসান মাহমুদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে শেষ পর্যন্ত ১৪১ বলে অপরাজিত ১০৯ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন এই অলরাউন্ডার। তার ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৪টি ছক্কা।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের হয়ে অফ স্পিনার কোরি রকিচ্চিওলি নেন ৬ উইকেট। জবাব দিতে নেমে শুরুতেই স্বাগতিকদের চাপে ফেলে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই হাসান মাহমুদের বলে উইকেটকিপার অমিত হাসানের ক্যাচে ফেরেন স্যাম কনস্টাস। এরপর তাসকিন আহমেদের শিকার হন ক্যাম্পবেল কেলাওয়ে। মাত্র ১ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ।
এই রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত স্বাগতিকদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ২১ রান। ক্রিজে আছেন অধিনায়ক কার্টিস প্যাটারসন ১১ ও জশ ফিলিপ ৯ রান নিয়ে।
আগামী ১৩ আগস্ট একই ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুরু হবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্ট। সেই সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে মিরাজের সেঞ্চুরি এবং নতুন বল হাতে বাংলাদেশের দুই পেসারের শুরু নিঃসন্দেহে সফরকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।