জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই ছিল ফলাফলের সময়, কিন্তু এর ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে সাড়ে ১৭ বছরের ত্যাগ-তিতিক্ষায়। এই সময়ে যারা শহীদ হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, আহত হয়েছেন তাদের ভুলে যাওয়া নিজের আত্মার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে জুলাই আন্দোলন নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অনেকেই ১৯৯৬ সালের রাজনীতিতে ফিরে গেছেন। ইতিহাসের ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্কে না গিয়ে তিনি বলেন, সুযোগ হলে পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলবেন।
জামায়াত আমির জানান, ব্যাংককের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাইয়ের আহত যোদ্ধাদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। অনেককে আগের সরকারের সময় বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলেও এখনো অসংখ্য আহত ও পঙ্গু যোদ্ধা চিকিৎসার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকারকে আরো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার জুলাইয়ের কিছু পরিবারকে সহায়তা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাড়ে ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা তিলে তিলে আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের জন্যও সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত এ জন্য প্রয়োজনে সংসদ সদস্যদের সুবিধা কমাতে হলে তিনি নিজের সুবিধা আগে ত্যাগ করতে প্রস্তুত বলে জানান।
জুলাই ফাউন্ডেশনকে আরো কার্যকর ও প্রাণবন্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, যদি সত্যি হয়ে থাকে যে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না, তবে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে কোনো ধরনের গড়িমসি জাতি মেনে নেবে না। যারা বিচার বিলম্ব করবে, হাশরের দিন আমি তাদের বিরুদ্ধে বাদী হব। বিচার অবশ্যই ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে হতে হবে, কারো প্রতি অবিচার করা যাবে না।
সংসদে বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, কিছু গণমাধ্যম অতীতে স্বৈরাচারকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছিল। এখনো তারা রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে এমন অভিযোগ করে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান তিনি।
সীমান্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। দেশের প্রতিটি বালুকণা রক্ষায় পুরো সংসদ ও দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন, তাই এ নিয়ে আর কিছু বলার নেই। তবে, দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে এমন মন্তব্য করা উচিত নয় এবং ভবিষ্যতে সবাইকে আরো সতর্ক থাকতে হবে।