আরব্য লোকগাঁথার অনন্য সৃষ্টি “লাইলি- মজনু”। হৃদয়ের গহীন থেকে মানব-মানবীর চিরন্তন আবেগ ও ভালোবাসার ব্যাকুলতা ও পাগলামি উঠে এসেছে বিশ্বনন্দিত এই অমর সৃষ্টিতে। ঐতিহাসিক দিক থেকেও এই প্রেমাখ্যানকে সত্য বলে বিবেচনা করা হয়।
বিশ্ববিখ্যাত আরব্য সেই লোকগাঁথার প্রেমাখ্যানকে এবার নাট্যরূপে মঞ্চে এনেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ।
নাটকটিকে ব্যাপক হারে দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পাঁচদিনের মঞ্চায়নের আয়োজন করেছে বিভাগটি। পাঁচদিনের এই উৎসবে সাতটি প্রদর্শনী করবে বলে জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে শুরু হয় এই মঞ্চায়ন।
দৌলত উজির বাহরাম খান বিরচিত নাটকটির নাট্যরূপ, পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় ছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানভীর নাহিদ খান।
নজদি বেদুইন কবি কায়েস ইবনে মুলাওয়া ও তাঁর প্রেমিকা লায়লা আল-আমিরিয়ার প্রেমকাহিনিনির্ভর প্রাচীন এই আরব্য লোকগাঁথা সারা বিশ্বে সুপরিচিত। ইংরেজ কবি লর্ড বায়রন একে মধ্যপ্রাচ্যের ‘রোমিও-জুলিয়েট’ বলে আখ্যায়িত করেন।
জীবনের পরতে পরতে জুড়ে থাকা মমতা আর সমাজবাস্তবতার ভাঁজে লুকিয়ে থাকা নির্মমতাকে
গীতিনাট্যের আদলে এই প্রযোজনায় তুলে ধরেছেন শিল্পী ও কলাকুশলীরা।
অভিনয়ে নান্দনিকতার পাশাপাশি পোশাক পরিকল্পনা, বাদ্যযন্ত্র এবং আবহসঙ্গীতেও ছিলো মুন্সিয়ানার ছাপ।
প্রযোজনার প্রতিটি দৃশ্য পিনপতন নীরবতায় মন্ত্রমুগ্ধের যাদুতে বিমোহিত করেছিলো দর্শক শ্রোতাদের। শিল্পী ও কলাকুশলীদের শৈল্পিকতার সমন্বয়ে আষাঢ়ের বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যাটি ভিজে যায় শিল্পের অমৃত ধারায়।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের (স্নাতক ) ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা।
আজ বৃহস্পতিবার একই সময়ে ও একই মিলনায়তনে নাটকটির দ্বিতীয় দিনের মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে। আর কাল শুক্রবার বিকেল ৫টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নাটকটির দুটি মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও, শনিবার ১১ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় এবং রবিবার ১২ জুলাই বিকেল ৫টায় ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটমণ্ডল মিলনায়তনে নাটকটির আরো তিনটি মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে।