বিশ্বকাপের প্রথ পর্বে সামর্থ অনুযায়ী তেমন একটা সাফল্য পাচ্ছিল না টুর্নামেন্টে ‘ডার্ক হর্স’ খ্যাত ইকুয়েডর। ফলে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ মাত্র ১ পয়েন্ট নিজেদের ঝুলিতে নিতে পেরেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। তবে শেষ পর্যন্ত গ্রুপ পর্বে তাদের শেষ ম্যাচে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় পেয়ে সামর্থের প্রমাণ দিয়েছে ইকুয়েডর। তাতে বড় বাধা টপকে দলটির পয়েন্ট ৪।
প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডর মুখোমুখি হয় আইভরিকোস্টের। এই ম্যাচে তারা হেরেছিল ১ গোলের ব্যবধানে। ম্যাচের ৯০ মিনিটের মাথায় গোল খেয়ে পরাজয়ের স্বাদ নিতে হয়েছিল তাদের। দ্বিতীয় ম্যাচে দলটি মুখোমুখি হয় কুরাসাওয়ের। এই ম্যাচেও গোল পায়নি তারা। যদিও এর পুরো কৃতিত্ব কুরাসাওয়ের এলয় রমের। এই গোলরক্ষকের দানবীয় ১৫টি সেভ গোল পেতে দেয়নি ইকুয়েডরকে। ফলে দুই ম্যাচে ১ পয়েন্ট পাওয়া ইকুয়েডরের নকআউটে খেলার স্বপ্ন অনেকটাই ম্লান হয়ে এসেছিল। কিন্তু নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ খেলে ঘুড়ে দাঁড়াল ইকুয়েডর। জয় ছিনিয়ে এনেছে চারবারের বিশ্বজয়ী জার্মানির বিরুদ্ধে।
ম্যাচের শুরুতে ২ মিনিটের মাথায় ইকুয়েডর গোল হজম করে চাপে পড়ে যায়। লিরয় সানের বক্সের ভেতর থেকে বাঁকানো শটের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। কিন্তু ৯ মিনিটের মাথায় ইকুয়েডরের নিলসন আনহুলোর গোলে খেলায় সমতা আনে দলটি। এরপর জার্মানির সঙ্গে চোখে চোখ রেখে খেলেছে ইকুয়েডর। আক্রমণের জবাব দিয়েছে প্রতি-আক্রমণে। সুযোগও পেয়ে যায় তারা। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৭৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পায় ইকুয়েডর। শেষ বাঁশি বাজার আগে ২-১ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইকুয়েডর।
এই জয়ের ফলে ‘ই’ গ্রুপে ইকুয়েডরের অবস্থান তৃতীয়। তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দলটি চলে গেল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে। শেষবার তারা নকআউট পর্বে খেলেছিল ২০০৬ বিশ্বকাপে।
অন্যদিকে হেরে গিয়েও ‘ই’ গ্রুপের সেরা হয়েই নকআউটে উঠল জার্মানি। তিন ম্যাচে দলটির পয়েন্ট ৬।