দুদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের রাস্তায় নামাজ পড়তে চাইলে বাংলাদেশে বা পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন বিজেপির মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। আর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বাংলাদেশ চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন দিলীপ। তিনি বলেন, “আইন, সংবিধান না মানলে মমতার বাংলাদেশে চলে যাওয়া উচিত।”
গতকাল ১৭ জুন (বুধবার) সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা বলয়ে বড়সড় রদবদল করা হয়। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তার পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার (পিএসও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন স্বরুপ গোস্বামী ও কুসুম কুমার দ্বিবেদী৷ বুধবার সন্ধ্যায় প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী তাদের সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন তিনজনকে পিএসও নিয়োগ করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করতে দেখা যায় (কালীঘাট) তৃণমূলের তরফে। জানা গেছে, সরকারি নিয়ম মেনে আসা ওই তিন নতুন ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষীকে ডিউটিতে যোগ দিতে দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং নিজের জন্য বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষী রেখেছেন তিনি।
এ ঘটনার পর ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) নিউটাউনে প্রাতঃভ্রমণে এসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এসময় সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর পিএসও বদল প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমাকে সরকার একসময় দু’জন নিরাপত্তা রক্ষী দিয়েছিল, আমি তো চয়েস করিনি। সরকার দিয়েছিল উনারা থাকতেন। তাহলে উনি কেন চয়েস করবেন?”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীতের শাসনকালের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি আরো যোগ করেন, “উনি যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন উনি এগুলো সঞ্চালনা করেছেন কাকে কোথায় পাঠাবেন! ছ-মাস অন্তর চেঞ্জ করে দিতেন। ওনার থানা কালীঘাটে কোনোদিন ওসি বদল হয়নি, এয়ারপোর্ট থানায় কোনোদিন ওসি বদল হয়নি। কিন্তু এখন যিনি সরকারে আছেন তার অধিকার আছে এটা দেখার। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যেটা করছেন, উনি সেটা মানবেন না কেন? উনি সংবিধান মানবেন না, সরকার মানবেন না। এই দেশে আছেন কেন, চলে যান বাংলাদেশে।”