দেশের অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তাকে চোর বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা নানা চুরিতে সম্পৃক্ত থাকে, এগুলো লুটপাট-ঘুষখোরি করে। যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠে এসেছে।
রবিবার বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ হলরুমে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টুর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু প্রমুখ। এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপি ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী দেশকে সর্বনাশ করে দিয়ে গেছে লুটপাট করে। যেই অন্যায় অত্যাচার নির্যাতন এই ১৫-১৬ বছরে তারা (আওয়ামী লীগ) করেছে বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে কখনো এরকম করেনি। বাংলাদেশের কোষাগার লুণ্ঠন করেছে, যা কিছু বিদেশি সাহায্য আসে সবকিছু চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে পর্যন্ত টাকা চুরি করে ফিলিপাইনে নিয়ে গিয়েছে।
ফিলিপাইনে যারা এর সঙ্গে জড়িত, তারা এখন সব জেলে আছে, কিন্তু বাংলাদেশের কারো কোনো বিচার হয়নি। এজন্যই আল্লাহর গজব তাদের উপরে আছে। এখন ভারতে বসে বসে হুংকার দেয় ডিসেম্বরে আসবে, জানুয়ারিতে আসবে, আসুক না, দেখি বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে কিভাবে গ্রহণ করেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গ তুলে স্পিকার বলেন, সততার মূল্য অপরিসীম। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কবে মারা গেছেন, কিন্তু আজও মানুষ তাকে কত সম্মান করে।
বিএনপি বারবার ক্ষমতায় এসেছে। জিয়াউর রহমানের করে যাওয়া ভালো কাজের কারণেই মানুষ বারবার বিএনপিকে ভোট দেয়। তিনি ৪-৫ বছর বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন, কিন্তু মৃত্যুর পর দেখা গেল তার কোনো জমি নাই। ব্যাংকে কোনো টাকা নাই। তার ৪ ভাই জীবিত ছিলেন, কেউ নামও জানে না তাদের। সততা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। মুসলিম বিশ্বে এ ধরনের শাসক ইদানীং দেখা যায় না। খোলাফায়ে রাশেদিনের পর তিনিই হলেন প্রকৃত শাসক, তিনি জননন্দিত। জনকল্যাণে সারা জীবন কাজ করেছেন, বিএনপি তারই দল।