টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর আগামীকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) থেকে বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ৩০ আগস্ট থেকে ভারতের হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি ও বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করে দেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য বাণিজ্য কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কর্মচাঞ্চল্যও কমে যায়।
ধর্মঘটের কারণ ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হিলি স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত সমস্যা, বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা এবং ব্যবসায়ীদের নানা অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।
ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিকাশ মণ্ডল বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুক্রবার বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
এদিকে হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম মণ্ডল বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠক ও ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। তবে বৈঠকের সিদ্ধান্তের
বিষয়ে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে এখনো লিখিত কোনো তথ্য আসেনি। দীর্ঘ পাঁচ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছিল উদ্বেগ।
কার্যক্রম পুনরায় চালু হলে বন্দরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে এবং দুই দেশের মধ্যে পণ্য বাণিজ্য স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।