• বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন

পিডিবির পদোন্নতিতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উপর বৈষম্য: বিউবো ডিপ্রকৌস

ইউনাইটেড ডেস্ক / ১১ Time View
Update : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে (পিডিবি) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) পদকে পৃথক পদোন্নতির ধাপ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করাকে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের স্বার্থ উপেক্ষার অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি (বিউবো ডিপ্রকৌস)। একই সঙ্গে সরকারি অনুমোদন ছাড়া এসডিই পদে পদোন্নতির সুযোগ রাখা হলে প্রকৌশল প্রশাসনে বৈষম্য তৈরি হবে এবং রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরে বিউবো ডিপ্রকৌস। এর আগে বিদ্যুৎ ভবনের সামনে সংগঠনটির উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিউবো ডিপ্রকৌসের সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান লিখিত বক্তব্যে বলেন, পূর্ণাঙ্গ চাকরি প্রবিধানমালা প্রণয়নের বিরোধিতা করছে না সংগঠনটি। বরং একটি বৈষম্যহীন, আইনসম্মত, ন্যায়সংগত ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই চাকরি প্রবিধানমালা প্রণয়নের পক্ষে শুরু থেকেই অবস্থান নিয়ে আসছে তারা। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আবেদন, মতবিনিময় সভা, লিখিত নীতিগত সুপারিশ ও প্রয়োজনীয় দলিলাদি উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ চাকরি প্রবিধানমালা প্রণয়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু, পূর্ণাঙ্গ চাকরি প্রবিধানমালা প্রণয়নের কাজ শেষ হওয়ার আগেই ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, স্থগিতাদেশ বহাল থাকলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে দ্রুত সমন্বয়, ধারাবাহিক আলোচনা এবং একটি বৈষম্যহীন ও গ্রহণযোগ্য পূর্ণাঙ্গ চাকরি প্রবিধানমালা প্রণয়নের প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা আরো জোরদার হতো।

মাহমুদুল হাসান অভিযোগ করেন, সংগঠনের উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত, আইনগত ও প্রশাসনিক বিষয়গুলোর সন্তোষজনক নিষ্পত্তি ও পুনর্বিবেচনা ছাড়াই জনবল নিয়োগ ও পদোন্নতি তফসিলসহ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা-২০২৬ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বিউবো ডিপ্রকৌসের অন্যতম দাবি, সহকারী প্রকৌশলী (এই) ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) পদের মোট সংখ্যার বিপরীতে উপসহকারী প্রকৌশলীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ বা ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ পদোন্নতির নীতি পুনর্বহাল করা।

মাহমুদুল হাসান লিখিত বক্তব্যে বলেন, ১৯৯৬ সালের শুধু বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এসডিইকে পৃথক পদোন্নতিযোগ্য ধাপ হিসেবে বিবেচনার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। ১৯৮৪ সালের এনাম কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এই ও এসডিইকে পুনরায় সমতুল্য পদ হিসেবে বিবেচনা করে অভিন্ন জ্যেষ্ঠতা তালিকা পুনর্বহাল করতে হবে।

এ ছাড়া, ১৯৯৬ সালের আগের মতো এই ও এসডিইর মোট পদের বিপরীতে উপসহকারী প্রকৌশলীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ পদোন্নতির ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।

প্রস্তাবিত চাকরি প্রবিধানমালা-২০২৬-এর নিয়োগ ও পদোন্নতি তফসিলে এসডিইকে পৃথক পদোন্নতিযোগ্য ধাপ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতিপত্র এবং অর্থ বিভাগ কর্তৃক পৃষ্ঠাঙ্কিত সরকারি আদেশের (জিও) কপি প্রেরণের দাবি জানিয়েছে বিউবো ডিপ্রকৌস।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও অর্থ বিভাগের জিও না থাকলে এসডিই পদকে পৃথক পদোন্নতিযোগ্য ধাপ হিসেবে তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে বিষয়টি তফসিল থেকে বাদ দিয়ে ১৯৮২ সালের সার্ভিস রুল এবং ১৯৮৪ সালের এনাম কমিটির সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন করতে হবে।

প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। মাহমুদুল হাসান বলেন, ফিরোজ কমিশন প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সব দপ্তরে উপসহকারী প্রকৌশলীর পদ সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৌশল প্রশাসনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং পিরামিড’ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

পূর্ণাঙ্গ চাকরি প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় ও পরামর্শের ভিত্তিতে তা চূড়ান্ত করার দাবি জানানো হয়। বিশেষ করে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ পর্যালোচনা কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে বিউবো ডিপ্রকৌস।

কমিটিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির প্রতিনিধিদের রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা পূর্ণাঙ্গ চাকরি প্রবিধানমালার বিরোধী নই; আমরা একটি বৈষম্যহীন, আইনসম্মত, ন্যায়সংগত ও টেকসই পূর্ণাঙ্গ চাকরি প্রবিধানমালা চাই।

তিনি বলেন, সংগঠন সব সময় শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত কর্মসূচিতে বিশ্বাস করে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানই তাদের প্রথম প্রত্যাশা। তবে, নীতিগত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা না করা হলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে শান্তিপূর্ণ সাংগঠনিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে। প্রয়োজনে প্রচলিত আইন অনুযায়ী, আইনগত প্রতিকার গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category