নোয়াখালীর সদর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় গুরুতর আহত আমিন উল্যাহ হাওলাদার (৮৪) নামের এক বৃদ্ধ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শুক্রবার রাতে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত আমিন উল্যাহ সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ভাটিরটেক গ্রামের মৃত মজু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট সকাল সাড়ে আটটার দিকে বাড়ির সামনে দখলে থাকা নাল জমিতে ধান চাষ করতে যান আমিন উল্যাহ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এ সময় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমিন উল্যাহসহ পরিবারের আটজন আহত হন।
পরে আমিন উল্যাহ, তাঁর দুই ছেলে আনোয়ার হোসেন ও জাকের হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমিন উল্যাহ ও আনোয়ার হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমিন উল্যাহর মৃত্যু হয়।
আহত জাকের হোসেন অভিযোগ করে বলেন , তাঁরা কয়েক যুগ ধরে পৈতৃক সম্পত্তিতে চাষাবাদ করে আসছেন। সম্প্রতি স্থানীয় একটি পক্ষ ওই জমি নিজেদের দাবি করে দখলের চেষ্টা করছে। এ নিয়ে মামলা চলমান থাকলেও জমিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
জাকের হোসেন বলেন, ‘গত ১২ আগস্ট অন্যান্য বছরের মতো রোপা আমনের চারা লাগাতে গেলে একরাম, আহছান উল্যাহ, ইয়াকুব, ফয়েজ উল্যাহ, সিরাজ, সালাউদ্দিন খোকন, ইসমাইল, আফসার ও সাহাব উদ্দিনসহ ৩০ থেকে ৪০ জন আমাদের ওপর হামলা চালান। তাঁরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পরিবারের আটজনকে আহত করেন।’
তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রতিপক্ষের কেউই বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত আমিন উল্যাহ হাওলাদার ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
ওসি বলেন, এ ঘটনায় দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে থানায় পৃথক দুটি মামলা করেছে। নিহতের পক্ষের করা মামলায় ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ছাড়া বিবাদী পক্ষের একজনও গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।