• শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০৭ অপরাহ্ন

মোরেলগঞ্জে দুই বছরের শিশুকে সড়কে ফেলে পালালেন মা

বাগেরহাট প্রতিনিধি / ৮ Time View
Update : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মাত্র দুই বছরের এক শিশুকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। পরে শিশুটিকে দাদির কাছে নিয়ে যাওয়া হলেও তিনিও দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানালে ফের তাকে রাস্তায় রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। অবশেষে অসহায় শিশুটির কান্না থামাতে এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা। শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে।

সেখানে শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুল্লাহ। অসহায় শিশুটিকে নিজের কোলে তুলে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তার নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় যত্নের ব্যবস্থা করেন তিনি।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার ১৪ নম্বর বারইখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় জেলে পাড়ার একটি ইটভাটার সামনের সড়কে হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার দিকে সড়কের পাশে একা শিশুটিকে কাঁদতে দেখে কয়েকজন এগিয়ে যান। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার দাদির কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দাদিও শিশুটির দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে আবারও সড়কের পাশে রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে তারা শিশুটিকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশুটির বাবা বারইখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. পলাশ এবং মা মোসা. মিতু আক্তার। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় তিন মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। শুক্রবার শিশুটির মা মিতু আক্তার শিশুটিকে ইটভাটার সামনের সড়কে রেখে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ঘটনার পর শিশুটির বাবা মো. পলাশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুল্লাহ। এ সময় পলাশ জানান, তিনি বর্তমানে মোরেলগঞ্জের বাইরে রয়েছেন। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিন দিনের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সন্তানকে নিজের দায়িত্বে নেওয়ার কথা জানান তিনি।

তবে এরই মধ্যে শিশুটির নিরাপত্তা ও তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে আসেন ইউএনও মোঃ হাবিবুল্লাহ। অসহায় শিশুটিকে নিজের কোলে তুলে নেন তিনি। শিশুটির পরনে প্রয়োজনীয় পোশাক না থাকায় নিজের বাসা থেকে জামা-কাপড় এনে তাকে পরিয়ে দেন। পরে শিশুটির জন্য খাবারেরও ব্যবস্থা করেন তিনি।

শিশুটির সাময়িক নিরাপত্তা ও দেখভালের বিষয়টি নিশ্চিত করতে তার ফুফু রেসমা খাতুনের কাছে সবার উপস্থিতিতে তিন দিনের ভরণ-পোষণের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়ে সাময়িকভাবে শিশুটিকে হস্তান্তর করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

একদিকে আপনজনদের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে যখন মাত্র দুই বছরের শিশুটি অসহায় অবস্থায় রাস্তায় পড়ে ছিল, অন্যদিকে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এমন তাৎক্ষণিক মানবিক ভূমিকা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসার সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি একজন অসহায় শিশুর প্রতি ইউএনওর এই সহমর্মিতা সত্যিই মানবিকতার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category