রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের পরও ভাউচার সংকটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাকসু প্রতিনিধিদের ব্যঙ্গ করে ‘ভাউচার মেলা’র আয়োজন করেছে শাখা ছাত্রদল।
আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এ আয়োজন করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেলার মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করে আলোকসজ্জা দ্বারা সজ্জিত আটটি স্টল দেখা যায়। মূল ফটক বরাবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনকে পিছনে রেখে একটি প্রতীকী লকার স্থাপন করা হয়েছে যার চারপাশে টাকার ছড়াছড়ি । লকারে ‘সবার হিসাব মেলে, আমার হিসাব মিলে না!’ এমন লেখা এবং বিভিন্ন বঙ্গাত্মক কাটুন স্থান পেয়েছে । স্টলগুলোয় সামনে ব্যানারে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ভিপি-জিএস এর নাস্তার বিল সংক্রান্ত ভাউচার’, ‘সভা-সেমিনার, বিতর্ক আয়োজন সংক্রান্ত ভাউচার’ , ‘সেলাই মেশিন ও কর্মশালা ভাউচার, ডেকোরেট’, ‘সাউন্ড সিস্টেম ও প্রজেক্টর ভাড়া ভাউচার!’, ‘কাউয়ালি দলের ভাড়া ও আমন্ত্রিত অতিথি ভাতার ভাউচার’, ‘বেলচা ক্রয় ভাউচার,নেপাল ট্যুর ভাউচার’, ‘ওয়েলফেয়ার ছাদ ভাড়া ও বিবিধ’, ‘নিউজ জড়ো,সাংবাদিক দেখে নেওয়া ও জন্ম নিরোধক সামগ্রী ক্রয় ভাউচার’ ইত্যাদি লেখা রয়েছে। এছাড়া ‘জাতীয় ভাউচার সোসাইটি’ নামে ভাউচারের নাম দিয়ে শিরোনামে ‘এখানে প্রয়োজনের তুলনায় ফান্ডের টাকার অতিরিক্ত ব্যয়,কালো টাকা সাদা করার এবং হিসাব ববহির্ভূত ব্যয়ের জন্য মন মতো ভাউচার তৈরি করা হয়’ এবং বিবরণে ‘নিউজ জড়ো,সাংবাদিক দেখে নেওয়া ও জন্ম নিরোধক সামগ্রী ক্রয়’ লেখা রয়েছে। রাকসু প্রতিনিধিদের ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে ব্যঙ্গ করে বিভিন্ন গানও বাজাতে শোনা যায়।
আয়োজন নিয়ে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, ‘‘রাকসুর তহবিল থেকে এক কোটি বেশি টাকা উত্তোলন করা হলেও ৬১ লক্ষ টাকার হিসাব দেওয়া হয়নি। এরপর থেকে আমরা জানতে পারি রাকসুর প্রতিনিধিদের ভুয়া ভাউচার বানানোর হিড়িক পড়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপন খবর যেন বাহিরে না যায় সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় অসাধারণ শিক্ষার্থীরা এই আয়োজন করেছে। তাদের যদি কোনো ভুয়া ভাউচার লাগে তাহলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভাউচার সোসাইটি তার ব্যবস্থা করবে এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।”
বিজয়-২৪ হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গাজী ফৈরদৌস হাসান বলেন, ‘‘আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি রাকসুর ভিপি, জিএস, এজিএস ফান্ড থেকে টাকা উত্তোলন করেও তার ভাউচার জমা দেয়নি এখন যেহেতু তাদের ভাউচার লাগবে এই খরচগুলো দেখানো জন্য ভাউচার মেলার আয়োজন করা হয়েছে।’’
এর আগে, গতকাল সন্ধ্যায় রাকসুর তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ সমাবেশ করে শাখা ছাত্রদল।
প্রসঙ্গত, রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের ব্যয়-সংক্রান্ত নথি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এতে বর্তমান পরিষদ ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা উত্তোলন করেছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার কোনো বিল-ভাউচার এখনো জমা পড়েনি। রসবচেয়ে বেশি হিসাব বকেয়া রয়েছে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নামে। তিনি ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ভাউচার জমা দেননি।