রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শহীদ বরকত মিলনায়তনে পবিত্র ঈদ-ই- মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ ড. ছদরুদ্দীন আহমদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আলেয়া আকতার ও শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক প্রফেসর এম. এম. আতিকুজ্জামান এবং মুখ্য আলোচক হিসেবে শরিয়াহ সেক্রেটারিয়েটের প্রধান মোহাম্মদ জুলকার নাইন উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ঈদ-ই- মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ছালেহ আহাম্মদ ফকির।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. ছদরুদ্দীন আহমদ বলেন, “বাৎসরিক সিরাত প্রোগ্রাম আমরা গত বছরও পালন করেছি এবং সেইভাবে পালন করে যাবো। সিরাত প্রোগ্রামের আয়োজন রাসূল সাঃ এর প্রতি অন্তর থেকে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে”। তিনি আয়োজক ও উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান।
উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আলেয়া আকতার বলেন, “আজকের এই দিনটা কেবল একটা দিন নয়, বরং নতুন একটা স্বপ্নের সূচনা ছিল। এই দিনে পৃথিবী পেয়েছিল ন্যায় সাম্য ও মানবতার পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। হযরত মুহাম্মাদ সাঃ এর আগমন পৃথিবীর জন্য রহমত স্বরূপ। আরাফার ময়দানে তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসে তা আরও শ্রেষ্ঠ ঘোষণা পত্র হিসেবে স্বীকৃত”। তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি আমাদের ছোটো ছোটো ভুল গুলো সংশোধন করি তাহলেই আমরা রাসুলের আদর্শ ধারণ করতে পারবো”।
মুখ্য আলোচক মোহাম্মদ জুলকার নাইন বলেন, “আমরা রাসুলের জীবনীকে দুই ভাবে পালন করি, একটা হচ্ছে মিলাদে রাসুল আরেকটা হচ্ছে সিরাতে রাসূল। মিলাদটাকে যেভাবে পড়বো আমরা সিরাতটাকে সেভাবে পড়বো। রাসূলের পুরো জীবন কীভাবে কাটিয়েছেন সেখান থেকে শিক্ষা নেবো”। এ সময় তিনি কুরআন ও হাদিস থেকে উদ্ভূতি দিয়ে রাসূলের জীবনকে ব্যাখ্যা করেন। দিবস কেন্দ্রীক ভালো না বেসে সারাজীবন রাসূলের অনুসরণ করার মাধ্যমে রাসূলকে ভালোবাসার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ছালেহ আহম্মদ ফকির বলেন, “একজন অমুসলিম ভাই বিশ্বের শ্রেষ্ঠ একশত মানুষের তালিকা করেছিলেন, সেখানে তিনি রাসূল সাঃ কে এক নম্বরে রেখেছেন। তাঁর আদর্শ আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে”। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় প্রধানগণ, ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা ও শিক্ষার্থীদের একাংশ। সকলে তাদের বক্তব্যে রাসূল সাঃ এর মহান আদর্শকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।
এর আগে রাসূল সাঃ এর সিরাত উপলক্ষ্যে কুইজ, রচনা, হামদ-নাত ও স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
পুরস্কার প্রদান শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।