চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার চাপে পাহাড়ধসে শিশুসহ ৩০ জনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এনসিপি দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই শোক ও উদ্বেগের কথা জানানো হয়।
এক দিনেই সাত শিশুর অকাল মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে এনসিপি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, টানা ভারী বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম মহানগরীর সিংহভাগ এলাকা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হাঁটু থেকে কোমরপানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে নগরবাসীর জনজীবন সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে, এমনকি রেললাইনের ওপর পানি জমে থাকায় পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালিতে ৪৫০ জন পর্যটক আটকে পড়ায় ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি।
এনসিপি অবিলম্বে বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতি পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আবহাওয়াবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আষাঢ়ের প্রথম ২০ দিন বৃষ্টিহীন থাকার পর সাগরে লঘুচাপের কারণে এই তীব্র ও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট সংকেত। তা সত্ত্বেও প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামের এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ধসের মতো মানবিক বিপর্যয় রোধে যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি ও টেকসই পরিকল্পনার অভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
এনসিপি মনে করে, চট্টগ্রামকে বাঁচাতে হলে শুধু সাময়িক ত্রাণ বিতরণ করলেই হবে না। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সাথে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত পরিবারগুলোকে স্থায়ী পুনর্বাসনের আওতায় এনে পাহাড়ধসের মতো মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে নাগরিকদের জীবন রক্ষা করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। জনস্বার্থে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে সরকারকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছে এনসিপি।