• সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন

আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দের জার্সিতে বাংলাদেশের ছোঁয়া

ইউনাইটেড ডেস্ক / ৪৬ Time View
Update : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার সমর্থকের সংখ্যা গুনে শেষ করা কঠিন। তাই ৪ জুলাই বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে উন্মাদনা থাকবে তুঙ্গে। তবে তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে সম্পর্কে এখনো অনেক বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীর জানাশোনা সীমিত।

রোম টু রিও ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে কেপ ভার্দের দূরত্ব প্রায় ১১ হাজার ৬৬৯ কিলোমিটার। আকাশপথে সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ২০ ঘণ্টা। আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে অবস্থিত এই ছোট্ট আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্রটি সম্পর্কে বাংলাদেশের অনেকেই প্রথম জানতে পারেন ফুটবল বিশ্বকাপের সুবাদে। তবে দুই দেশের সম্পর্ক শুধু ফুটবলে সীমাবদ্ধ নয়। কেপ ভার্দে বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানি বাজার। আর এবারের বিশ্বকাপে সেই সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন এক অধ্যায়—কেপ ভার্দে জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে।

বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই দারুণ চমক দেখিয়েছে কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবকে পেছনে ফেলে তারা জায়গা করে নিয়েছে শেষ ৩২-এ। এবার তাদের সামনে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বলছে, বাংলাদেশ থেকে কেপ ভার্দেতে রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয় ২০১০ সালের নভেম্বরে। সে সময় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রিকালচার মার্কেটিং কোম্পানি দেশটিতে ১১ হাজার ডলারের খাদ্যপণ্য রপ্তানি করেছিল।

পরবর্তী সময়ে এই বাজারে যুক্ত হয় হাশেম ফুডস, ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রাণ-আরএফএলের বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি ওয়ালটনের ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক কেটলি ও ওভেনও রপ্তানি হচ্ছে কেপ ভার্দেতে। অন্যদিকে দেশটি থেকে বাংলাদেশে মূলত আমদানি করা হয় লোহার স্ক্র্যাপ।

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে কেপ ভার্দেতে প্রায় ২ লাখ ৫১ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। একই সময়ে দেশটি থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার ডলারের পণ্য। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে বাংলাদেশের উদ্বৃত্ত রয়েছে।

বাংলাদেশে কেপ ভার্দের সমর্থক প্রায় নেই বললেই চলে। তাই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে অধিকাংশ দর্শকের সমর্থন থাকবে নীল-সাদা জার্সিধারীদের পক্ষেই। তবে প্রতিপক্ষের জার্সিতেও থাকবে বাংলাদেশের এক নীরব উপস্থিতি।

বিশ্বকাপের মঞ্চে রূপকথার গল্প লিখছে কেপ ভার্দে। সেই গল্পের একটি অংশ জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামা কেপ ভার্দের ফুটবলারদের গায়ে থাকবে ঢাকার একটি কারখানায় তৈরি জার্সি—যা বহন করবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প ও রপ্তানি সক্ষমতার এক অনন্য গল্প।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category