• বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ন

ফুটবলকে বিদায় জানালেন লুকা মদরিচ

ইউনাইটেড ডেস্ক / ৪০ Time View
Update : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

পর্তুগালের বিরুদ্ধে যোগ করা সময়ের ১৯ মিনিটের সেই রুদ্ধশ্বাস ও নাটকীয় ম্যাচটি কেবল ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ক্রোয়েশিয়ার বিদায় ঘণ্টাই বাজায়নি, বরং তা আধুনিক ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক মহিমান্বিত ও সোনালী অধ্যায়ের চিরতরে অবসান ঘটিয়েছে। ম্যাচ শেষে ইউরোপীয় গণমাধ্যম ‘তুত্তোস্পোর্ট’-এর খবরকে সত্যি প্রমাণ করে।

৪১ ছুঁইছুঁই ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ড মায়েস্ট্রো লুকা মদরিচ আনুষ্ঠানিকভাবে সব ধরনের পেশাদার ও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিজের অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। টরন্টোর মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর গোল এবং শেষ মুহূর্তের ভিএআর ট্র্যাজেডিতে ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার আবেগঘন ধাক্কা আর নিতে পারেননি এই ফুটবল জাদুকর। নিজের পঞ্চম ও শেষ বিশ্বকাপ আসরে ক্রোয়েশিয়াকে আরেকটি স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও, ট্র্যাজিক এক বিদায় নিয়েই কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই কিংবদন্তি।

টটেনহ্যাম থেকে মাত্র ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডে যখন রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছিলেন, তখন তাকে স্প্যানিশ মিডিয়া আখ্যা দিয়েছিল ‘সবচেয়ে বাজে সাইনিং’ হিসেবে। কিন্তু সেই স্ক্রুটিনি বা সমালোচনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মদরিচ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন লস ব্লাঙ্কোসদের ইতিহাসের সবচেয়ে সুসজ্জিত ও সফলতম খেলোয়াড় হিসেবে। মাঝমাঠে ক্যাসেমিরো এবং টনি ক্রুসের সাথে গড়ে তোলা সেই ঐতিহাসিক মিডফিল্ড ত্রয়ী ফুটবল বিশ্বকে শাসন করেছে এক দশকেরও বেশি সময়।

রিয়ালের সাদা জার্সিতে ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৮টি মেজর ট্রফি জয়ের অনন্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি, যার মধ্যে রয়েছে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৬টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। ২০১৪ সালের ঐতিহাসিক ‘লা ডেসিমা’ ফাইনালে ৯৩তম মিনিটে ওল্ড নর্স ধাঁচের কর্নার থেকে সার্জিও রামোসের হেডে করা সেই অ্যাসিস্টটি রিয়ালের আধিপত্যের প্রতীক হয়ে আছে। মাঠের ভেতর নিখুঁত দূরদৃষ্টি আর বুটের বাইরের পাশ দিয়ে করা তার ট্রেডমার্ক ‘ট্রিভেলা’ পাসিং শৈলী আগামী প্রজন্মের মিডফিল্ডারদের জন্য এক জীবন্ত টেক্সটবুক হয়ে থাকবে।

লুকা মদরিচের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্বর্ণালী বছর ছিল ২০১৮ সাল। লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাখা ব্যালন ডি’অরের একক সাম্রাজ্যকে এক লহমায় গুঁড়িয়ে দিয়ে সে বছর ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মাননা ‘ব্যালন ডি’অর’ নিজের বগলে পুরেছিলেন এই ক্রোয়েশিয়ান ক্রুসেডার। একই বছর ফিফা দ্য বেস্ট, উয়েফা প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার এবং আইএফএফএইচএস ওয়ার্ল্ডস বেস্ট প্লেমেকারের পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি।

গত মরশুমে এসি মিলানের হয়ে ক্লাব ক্যারিয়ারের আবেগঘন সমাপ্তির পর এবার জাতীয় দলের জার্সিও তুলে রাখলেন ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্স-আপ ও ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট দলের এই অদম্য অধিনায়ক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category