হামসহ বিভিন্ন রোগের টিকা কার্যক্রমে গাফিলতির অভিযোগ এনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম-এর বিচারের দাবি জানিয়েছেন একদল আইনজীবী।
বুধবার (১৩ মে) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ‘সাধারণ আইনজীবীবৃন্দ’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। কর্মসূচিতে প্রায় অর্ধশত আইনজীবী অংশ নেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দেশে টিকার সংকট তৈরি হয়েছিল এবং সময়মতো টিকা না পাওয়ায় বহু শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের দাবি, ইউনিসেফের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে অন্তর্বর্তী সরকার টিকা সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তন করে ‘উন্মুক্ত দরপত্র’ বা ওপেন টেন্ডার পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলেই দেশে হামের টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয়।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, সঠিক সময়ে টিকা না পাওয়ায় চার শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
আইনজীবী কায়েস আহমেদ অর্ণব বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও নূরজাহান বেগমকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য, শুধু হাম নয়, অন্যান্য টিকার ক্ষেত্রেও সরকারের চরম গাফিলতি ছিল এবং এর সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত।
আরেক আইনজীবী সিলফাত আমিনুল করিম অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকার আগের চুক্তিগুলো বাতিল করলেও কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি বলেন, শিশুদের অকাল মৃত্যুর দায় সরকারকে নিতে হবে এবং বর্তমান সরকারের কাছে তারা এর বিচার দাবি করছেন।
কর্মসূচির শেষ দিকে কয়েকজন আইনজীবী চোখ ও মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। এ সময় আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, “চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু কেবল গাফিলতি নয়, এটি একটি অপরাধ।”