• রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০২:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাঁশের খুঁটি স্থাপন নিয়ে পাটগ্রাম সীমান্তে উত্তেজনা: বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক চাঁদা না পেয়ে বিএনপি নেতা দখলে নিলেন জামায়াত নেতার খেয়াঘাট গুলিস্তানে দুই ট্রাফিক কনস্টেবলের হাতাহাতি; সাময়িক বরখাস্ত ঝিনাইদহে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা সরকারের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র চলছে: প্রধানমন্ত্রী রামিসা হত্যাকারীর ফাঁসি জনসম্মুখে কার্যকর করতে হবে : লেবার পার্টি ঘোড়াঘাটে পুকুরের পানিতে বেলুন তুলতে গিয়ে প্রাণ হারায় এক শিশু শালিস দরবারের নামে ধর্ষণের ঘটনা রফাদফার চেষ্টা, জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তরুণী কান উৎসবে যোগ দিতে মেয়ে আরাধ্যাকে নিয়ে রওনা ঐশ্বরিয়ার ‘পটাকা’র পর ঈদে নতুন গান নিয়ে ফিরছেন নুসরাত ফারিয়া

নরসিংদীতে বদলি নাটক ঘিরে সমালোচনা: স্বাস্থ্য বিভাগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

Reporter Name / ১১৬ Time View
Update : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

“মানি ইজ পাওয়ার, পাওয়ার ইজ মানি”—প্রচলিত এই প্রবাদটি যেন বাস্তব রূপ নিয়েছে নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক মো. মনসুর আহমেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্যজনক পরিস্থিতি।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে মনসুর আহমেদকে নেত্রকোনার কমলাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আদেশ জারির তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে। অন্যথায় চতুর্থ কর্মদিবস থেকে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।

তবে বিস্ময়করভাবে, বদলির আদেশ জারির মাত্র একদিন পর, ২৩ এপ্রিল সেটি হঠাৎ করেই বাতিল করা হয়। এ আকস্মিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নরসিংদীজুড়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মনসুর আহমেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং বদলির আদেশ জারির পরদিনই তা বাতিল হওয়ায় জনমনে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেকের ধারণা, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকেই তিনি এই বদলি ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন।

বদলি বাতিলের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকে এটিকে স্বাস্থ্য বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। আবার কারও মতে, এমন সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক ধরনের ‘প্রশাসনিক তামাশা’র শামিল।

এ বিষয়ে কমলাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আল মামুন বলেন, “মনসুর আহমেদের বদলির আদেশ আমরা পেয়েছিলাম। তবে তিনি এখনো যোগদান করেননি এবং আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগও করেননি।”
নরসিংদীর সিভিল সার্জন মো. বুলবুল কবীর বলেন, “আমি সদ্য এখানে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। তবে শুনেছি, ২৩ এপ্রিল তার বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে।”

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এমন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত জরুরি। অন্যথায় স্বাস্থ্য বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে আরও সংশয় সৃষ্টি হতে পারে।

ইউনি/শাহোরা/


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category