• সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন

ঢাকার বাহিরে চীনের সহায়তায় হচ্ছে ২০টি বিশেষায়িত হাসপাতাল ‎

ইউনাইটেড ডেস্ক / ১২ Time View
Update : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

গুণগতমান ঠিক রেখে চিকিৎসা সেবায় নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চীনের সহযোগিতায় সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ২০টি আধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে চলছে। এতে রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থার চাপ কমে জেলাশহরগুলোতে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। পাশাপাশি প্রস্তাবিত এসব হাসপাতালে মোট ২১ হাজার শয্যা থাকবে।

‎সসম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, চীনের সহায়তায় ২০টি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দুই দেশের মধ্যে চুক্তির দিকেও এগোনোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

‎প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০টি হাসপাতালের মধ্যে ১৮টি হবে এক হাজার শয্যার সাধারণ হাসপাতাল। বাকি দুটি হবে নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল। প্রতিটি বিশেষায়িত হাসপাতালে প্রায় দেড় হাজার শয্যা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

হাসপাতালগুলো দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলার মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই স্থাপন করা হবে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলের মানুষ জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসতে বাধ্য হন, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এতে চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে রোগীর চাপ কমার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া হাসপাতালগুলো নির্মাণের পাশাপাশি রোগী পরিবহনের জন্য ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স ও চারটি হেলিকপ্টার দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, ঢাকার বাইরে জটিল ও উন্নত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করা, রাজধানীর হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কমানো এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী মানুষের সংখ্যা কমানো।


‎পরিকল্পনার তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতাল নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমির ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণ ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহসহ বড় ধরনের ব্যয়ে চীনের সহযোগিতা পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

‎প্রকল্পের অর্থায়ন, হাসপাতাল নির্মাণের স্থান, পরিচালনা পদ্ধতি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। সরকারি পর্যায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে প্রকল্পের বিস্তারিত কাঠামো চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলো এমন স্থানে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে আশপাশের একাধিক জেলার মানুষ সহজে সেখানে চিকিৎসা নিতে পারেন।

‎উত্তরাঞ্চলের নীলফামারীতে একটি বড় বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে আলাদাভাবে কাজ চলছে। প্রস্তাবিত জায়গাটি মহাসড়কের পাশে এবং সেখানে সরকারি জমি রয়েছে। ফলে হাসপাতাল নির্মাণের জন্য জমির ব্যবস্থা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। এ ছাড়া ওই এলাকার কাছেই রয়েছে সৈয়দপুর বিমানবন্দর ও রেল যোগাযোগ। ফলে নীলফামারীর পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন জেলার রোগীরাও দ্রুত সেখানে পৌঁছাতে পারবেন।

‎সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে বড় ধরনের চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে উঠলে উত্তরাঞ্চলের একটি বিস্তৃত এলাকার মানুষের উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে। বর্তমানে যে সকল রোগী জটিল চিকিৎসার জন্য ঢাকায় কিংবা বিদেশে যেতে বাধ্য হন, তাঁদের বড় অংশকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।

‎নতুন হাসপাতালগুলোতে শুধু সাধারণ চিকিৎসা নয়, উচ্চতর ও বিশেষায়িত চিকিৎসার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। হৃদরোগ, ক্যানসার, কিডনি, লিভার ও স্নায়ুরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহজলভ্য করা উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category