• সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৬ অপরাহ্ন

কুমিল্লায় গৃহবধুর অর্ধশত টুকরো উদ্ধার

কুমিল্লা প্রতিনিধি / ১৬ Time View
Update : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

‎কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক গৃহবধূকে হত্যার পর মরদেহ প্রায় অর্ধশত টুকরা করে ৯টি পলিব্যাগে ভরে রাখার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার শিকার ফরিদা বেগম (৫৫) এর ঘটনায় নিহতের বাড়ির ভাড়াটিয়া লাইলী বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।

‎শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোটআলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের শিকার ফরিদা বেগম ওই এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়া বাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী।

‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফরিদা বেগম ওই বাড়িতে একাই থাকতেন। তার স্বামী মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। তাদের দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র ছেলে কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।

‎শনিবার সকালে ফরিদা বেগমকে বাড়িতে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তিনি প্রতিদিন ডায়াবেটিসের কারণে সকালে হাঁটতে বের হতেন বলে জানান স্বজনরা।

‎বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে মাইকিং করা হয়। বিকেলে ফরিদা বেগমের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট দেখতে পান। সন্দেহ হলে কাছে গিয়ে তিনি প্যাকেটের ভেতর খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৯টি পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের খণ্ড উদ্ধার করে। তবে মরদেহের মাথা ও দুই পা এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

‎স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে বাড়ির ভাড়াটিয়া লাইলী বেগমকে আটক করা হয়। স্থানীয়দের একাংশ তাকে আটক করে মারধর করে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয় এবং থানায় নিয়ে যায়।

‎পুলিশ জানায়, লাইলী বেগম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফরিদা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত আরো কয়েকজনের নাম বলেছেন। তবে এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

‎গত ১ আগস্ট থেকে লাইলী বেগম ওই বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। তার স্বামী আবুল কালাম চাপানগর গ্রামের বাসিন্দা ও ট্রাক্টরচালক।

‎দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত মরদেহ থাকা ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আটক লাইলী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরো চারজনের নাম উল্লেখ করেছেন। যাচাই-বাছাই করে অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।”

‎প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত লাইলি বেগমকে ২০২১ সালে ৭ নভেম্বর ভাসুর আমির হোসেনের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন আমির হোসেনের ৭ বছরের মেয়ে ফাহিমা। পরে তারা ফাহিমাকে হত্যা করে কাচিসাইর ব্রিজের নিচে ফেলে আসে। এক সপ্তাহ পরে ওই শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় লাইলী বেগমসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৬ বছর কারাদণ্ড শেষে কিছুদিন আগে জামিনে বের হন লাইলি বেগম। পহেলা আগস্ট তিনি ফরিদা ইয়াসমিনের বাড়িতে কক্ষ ভাড়া নেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category