জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন দেশের রাজনীতিতে বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, এনসিপি বিদেশি শক্তির টুল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাছাড়া গণঅভ্যুত্থান ছাত্র-জনতার আন্দোলন হলেও ক্ষমতার পালাবদলের আগেই বিদেশি শক্তি এতে প্রভাব বিস্তার করে্
সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনে আত্মাপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, “আজকে আমি মনে করি, রাজনীতিতে এখন একটা বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে এনসিপি। তাদের শক্তির জায়গা কোথায়, কীভাবে পরিচালিত হয় এসব আমরা জানি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল- সাধারণ ছাত্র-জনতার আন্দোলন। কিন্তু, শেখ হাসিনার পতন নিশ্চিত হওয়ার আগেই বিদেশি শক্তি এখানে ঢুকে পড়ে। যেসব ছাত্রনেতাকে ড. ইউনূস হাইলাইট করেছেন, তারা তখনও বিদেশি শক্তির গুটি ছিলেন, এখনো সেই গুটি হিসেবেই কাজ করছেন।”
তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে এবং এসব ঘটনায় এনসিপিকে ব্যবহার করা হতে পারে।” সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, “সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সীমিত কয়েকজন ছাত্রনেতাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্ররা রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেনি। কিন্তু, কয়েকজন ছাত্রকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ বানিয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে এবং সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব ছিল। কিন্তু ফ্যাসিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বর্তমান রাজনৈতিক সংকট আরো জটিল হয়েছে।”
রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নুরুল হক নুর বলেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট এখনো কাটেনি এবং বিদেশি শক্তির প্রভাবও শেষ হয়নি।” তাই গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার, রাজনৈতিক দল এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শক্তিগুলোর মধ্যে ন্যূনতম বোঝাপড়া গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।