তেহরানের ওপর মুহুর মুহুর যৌথ বিমান হামলার পর আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে যুদ্ধবাজ যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রোবিবার বৈঠকের ঘোষণা দিয়েছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
স্থানীয় সময় রবিবার (২ আগস্ট) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন সময় সোমবার (আজ) দুপুর থেকেই তেহরানের সঙ্গে এই নতুন কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে।
তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়ে ইরান এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার দাবি করে আসছেন, আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটতে যাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবতায় পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখার জন্য তেহরানের অনুরোধের বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং ট্রাম্পের দাবিকে ‘নতুন একটি মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
এদিকে, রবিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত একটি চুক্তির বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে’।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “হামলার বড় প্রস্তুতি দেখেই ইরান এর মাত্রা বুঝতে পেরেছিল। আমরা এখন তাদের সঙ্গে সমঝোতার টেবিলে কথা বলছি।”
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদেশগুলো তাকে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছিল। তিনি ইঙ্গিত দেন, একটি সম্ভাব্য চুক্তির মূল সীমারেখা নিয়ে ইতোমধ্যে সব পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি যোগ করেন, “দেখা যাক কী হয়। আমরা যেকোনো সময় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, তবে আমি অহেতুক মানুষ হত্যা করতে চাই না।”
ট্রাম্প আরো বলেন, “সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা তাকে সপ্তাহান্তে ইরানের ওপর হামলা না চালানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন।
<span;>ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে গেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে মার্কিন বাজারে তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে বিক্রি হচ্ছে ৮০ দশমিক ৭৪ ডলারে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত ঘটায় জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলজি) প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সোমবারের এই আলোচনা কোথায় অনুষ্ঠিত হবে বা কারা এতে অংশ নেবেন সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু স্পষ্ট করেননি।