পেরুর ঐতিহাসিক ও বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র ‘নাসকা লাইনস’ দেখার সময় একটি ছোট পর্যটকবাহী বিমান দূর্ঘটনার শিকার হয়। এতে বিমানে থাকা ১৩ পর্যটকের সবাই নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট তিনবার এই পর্যটন এলাকায় বিমান দূর্ঘটনা ঘটে। এর ২০১০ ও ২০০২ সালের দূর্ঘটনায় মোট ১৩ জন মারা গিয়েছিলো।
রবিবার (২ আগস্ট) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পেরুর সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সেসনা ক্যারাভান সি-২০৮’ মডেলের বিমানটি স্থানীয় সময় শনিবার নাসকা লাইনস প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার ওপর দিয়ে উড়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিমানে ১১ জন যাত্রী ও ২ জন পাইলট ছিলেন।
পেরুর রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যাত্রীদের মধ্যে ২ জন জার্মান, ২ জন স্প্যানিশ এবং ৭ জন ইতালীয় পর্যটক ছিলেন। দুর্ঘটনার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
দক্ষিণ পেরুর নাসকা লাইনস খুবই জনপ্রিয় একটি পর্যটন এলাকা এবং ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। এখানকার মরুভূমির বালিতে প্রাচীনকালের বিভিন্ন পশুপাখির নকশা আঁকা রয়েছে। পুরো নকশাটি ওপর থেকে ভালো করে দেখার জন্য পর্যটকরা প্রায়ই ছোট বিমানে ভ্রমণ করে থাকেন।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি-এর তথ্যমতে, পুলিশ মেজর জর্জ অ্যান্ড্রেড বলেছেন, “দুর্ঘটনার তীব্রতা বিবেচনা করে বোঝা যাচ্ছে যে কেউই বেঁচে নেই। আমরা এ পর্যন্ত ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি।”
পেরুর পিসকো শহরের একটি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর স্থানীয় সময় দুপুর ১টা (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা) নাগাদ ‘পুয়েবলো ভিহো’ এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ধারণ করা ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানের ধোঁয়াটে ধ্বংসাবশেষ নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছেন।
দুর্ঘটনার পর ‘প্রভিন্সিয়াল মিউনিসিপ্যালিটি অব নাসকা’ এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। তারা নিশ্চিত করেছে যে, বিধ্বস্ত বিমানটি স্থানীয় বিমান সংস্থা এরোডিয়ানার মালিকানাধীন ছিল।
এরোডিয়ানা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের পরবর্তী ফ্লাইট সূচি পর্যালোচনা করবে।
পেরুর বিখ্যাত এই পর্যটন এলাকায় বিমান দুর্ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০০২ সালে নাসকা লাইনসের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় আরেকটি ছোট পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৭ জন নিহত হন। এছাড়া ২০১০ সালেও সেখানে আরেকটি বিমান দুর্ঘটনায় ৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।