• বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন

খামেনির কফিনে ইমাম রেজার মাজারের লাল পতাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৩৬ Time View
Update : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিনের ওপর দেশটির মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা মাজারের ‘লাল পতাকা’ রাখা হয়েছে। শোক ও বিদায় আয়োজনের অংশ হিসেবে এই প্রতীকী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবর আল-জাজিরার।

আগামী ৯ জুলাই ইমাম রেজা মাজারে খামেনিকে দাফন করা হবে। তার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে দেশটিতে আনুষ্ঠানিক শোক ও বিদায় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।

জর্জেটাউন ইউনিভার্সিটির মিডল ইস্ট অ্যান্ড ইসলামিক পলিটিক্সের সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমী আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই লাল পতাকার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি জানান, শিয়া ইসলামে এই লাল পতাকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি মূলত মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকে নির্দেশ করে, যিনি সপ্তম শতাব্দীতে কারবালার প্রান্তরে শহীদ হয়েছিলেন।

অধ্যাপক হাশেমী বলেন, “কারবালার যুদ্ধে ইমাম হোসেনের শাহাদাত শিয়া মুসলমানদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও আধ্যাত্মিক রেফারেন্স পয়েন্ট। ইরান এই লাল পতাকা ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুকে ইমাম হোসেনের শাহাদাতের সঙ্গে তুলনা করার চেষ্টা করছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী প্রতিরোধ ও ত্যাগের বার্তা দেয়।”

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খামেনির বিদায়ী অনুষ্ঠানটি মোট ছয় দিন ধরে চলবে। ইরান ও প্রতিবেশী ইরাকসহ মোট পাঁচটি শহরে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) খামেনির কফিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রজেক্ট কমপ্লেক্সে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য রাখা হবে। সোমবার পর্যন্ত এই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন পর্ব চলবে এবং ওইদিন তেহরানের রাস্তায় একটি শোকমিছিল বের করা।

এরপর আগামী ৭ জুলাই এই শোকযাত্রা পবিত্র শহর কোমে এবং পরবর্তীতে ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরে নিয়ে যাওয়া যবে।

আগামী ৯ জুলাই খামেনির মরদেহ ইরানের তার নিজ শহর মাশহাদে ফিরিয়ে এনে দাফন সম্পন্ন করা হবে।

ইরানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে দেশ ও বিদেশ থেকে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি শোকাকুল মানুষ অংশ নিতে পারেন। বিশাল এই জনসমাগমকে কেন্দ্র করে পুরো দেশে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হাই অ্যালার্ট জারি করেছে।

এই ঐতিহাসিক জানাজায় অংশ নিতে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া এবং কিউবাসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা ইরানে আসছেন। এছাড়া ৯০টি দেশের ধর্মীয় নেতারাও এতে অংশ নেবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category