• শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন

স্থগিত যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের আলোচনা : সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৩০ Time View
Update : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাতাকা। ছবি সংগ্রহীত

কোন কারণ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বিরোতি পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনা স্থগিত করেছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বৈঠকটি সুইজারল্যান্ডে হওয়ার কথা থাকলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট দেশটির সফর বাতিল করেন। তবে সুইজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার আলোচনা স্থগিত করা হলেও চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুতি চলছে।

আজ শুক্রবার এ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। হোয়াইট হাউসের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। প্রাথমিক চুক্তিতে ফ্রান্স থেকে ভার্চ্যুয়ালি স্মারকে সই করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তেহরান থেকে সই করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

তবে চুক্তিটির বিষয় ইরান ইতিবাচক থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে নিয়ে শঙ্ক প্রকাশ করেছে দেশটি। চুক্তির কিছু সময় পর পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘এ আলোচনার সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা কখনোই সহজ বা আগে থেকে অনুমান করার মতো ছিল না। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট আজ রাতে রওনা হচ্ছেন না। আমরা যত দ্রুত সম্ভব কারিগরি আলোচনা শুরু করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।’

উল্লেখ্য, জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে সই হওয়ার কথা ছিল আজ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। তবে কোনো আভাস না দিয়ে এক দিন আগেই গত বুধবার রাতে (বাংলাদেশ সময়) স্মারকে সই করা হয়।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেন, আলোচনার সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার বিষয় আগে থেকে অনুমান করার মতো ছিল না। পরিস্থিতি অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট আজ (গতকাল বৃহস্পতিবার) রাতে রওনা হচ্ছেন না।

পরে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ জানিয়ে দেন, শুক্রবার (আজ) জেনেভায় প্রাথমিক চুক্তি (সমঝোতা স্মারক) সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা হচ্ছে না। তবে এদিন চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু হবে বলে জানিয়েছে দেশটি।

এ আলোচনা হওয়ার কথা ছিল পর্বতের শীর্ষে অবস্থিত একটি অবকাশকেন্দ্রে। সেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান, কাতারসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা থাকার কথা। আলোচনা চলার কথা ৬০ দিন। সেখানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও জব্দ করা অর্থ ছাড় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ২০১৫ সালে চুক্তি করতে প্রায় দুই বছর লেগেছিল। তাই এবারের আলোচনার ৬০ দিনের সময়সীমা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকেরা। তাঁর ভাষ্য, ইরান যত দিন ‘ঠিকঠাক আচরণ’ করবে, এ সময়সীমা নিয়ে তিনি ভাববেন না।

এদিকে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের পর পরিস্থিতি ভালো হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সমঝোতা অনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে কিছু জাহাজ পারাপারের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফ্রান্সের পতাকাবাহী একটি জাহাজ রয়েছে। ইরানের ১১টি জাহাজও দেশটির বন্দর ছেড়ে গন্তব্যের দিকে এগিয়েছে। এদিন প্রতি ব্যারেল তেলের দামও কমে ৭৯ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। তাছাড়া মার্কিন যুদ্ধ জাহাজগুলো ইরানের বন্দরগুলো ছেড়ে চলে যাওয়ার খবর শুনা যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে চুক্তি টেকসই করার বড় দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের বলে মনে করেন তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধ্যাপক মোস্তাফা কোসচেশম। তাঁর শঙ্কাও ইসরায়েলকে নিয়ে। আল–জাজিরাকে এই অধ্যাপক বলেন, লেবাননে যদি ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যায়, তবে ইরান চুক্তি থেকে সরে যেতে পারে। ইসরায়েলকে সামলে রাখার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই পড়ে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category