• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ন

প্রধান শিক্ষকহীন হাকিমপুরের ২২ বিদ্যালয়

হিলি প্রতিনিধি: / ২৪ Time View
Update : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর একটি বড় অংশে প্রধান শিক্ষক না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও স্বাভাবিক পাঠদান। উপজেলার মোট ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে ২২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

উপজেলার নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক না থাকায় একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে একদিকে তাকে নিয়মিত পাঠদান করাতে হচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও সামলাতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠছে।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ, দাপ্তরিক নথিপত্র প্রস্তুত, বিভিন্ন প্রতিবেদন তৈরি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগসহ নানা কাজে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকতে গিয়ে নিয়মিত ক্লাস থেকেও বিরত থাকতে হচ্ছে। এতে পাঠদানের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তারা।

নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম আলমাস বলেন, “স্কুলের অফিসিয়াল কাজ সামলানোর পাশাপাশি প্রতিদিনই রুটিন ধরে ক্লাস নিতে হয়। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকলে ক্লাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাছির উদ্দিন বলেন, “প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত না হয়। তবে দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।”

এদিকে, প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, একটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘদিন পদটি শূন্য থাকলে বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়ে।

হাকিমপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হারুন মো. আমান জানান, “বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত হাকিমপুর উপজেলার প্রধান শিক্ষকশূন্য ২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category