এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ::
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। বোর্ডের অধীন ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে, শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে মাত্র তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বোর্ড প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে।
শূন্য পাসের তালিকায় সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার এ কে ফজলুল হক এমসি কলেজে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি। একইভাবে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মাকরাইল করিম খালেক সোলাইমান ইনস্টিটিউট থেকে ৪৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
এ ছাড়া খুলনার কয়রা উপজেলার শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৭ জন, ঝিনাইদহের মল্লিক শহিদুল ইসলাম কারিগরি কলেজ থেকে ১৯ জন, মাগুরার বুজ্রুক শ্রীকুন্ডি কলেজ থেকে ১৫ জন এবং খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১২ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজনও পাস করতে পারেনি।
শূন্য পাসের তালিকায় আরও রয়েছে খুলনার ইনডিপেনডেন্স আইডিয়াল কলেজে ১১ জন, যশোরের মণিরামপুরের সবুজ পল্লি কলেজে ৭ জন, কুষ্টিয়ার হাজি নুরুল ইসলাম কলেজে ৮ জন, খুলনার মডেল মহিলা কলেজে ৩ জন, সাতক্ষীরার ইসলামিয়া মহিলা কলেজে ৩ জন, মাগুরার গোপীনাথপুর এম এ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২ জন, খুলনার কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দিরে ৩ জন, কুষ্টিয়ার জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজে ১ জন, মেহেরপুরের মোরকা জাগরণ কলেজে ১ জন এবং খুলনার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লসে ১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
অন্যদিকে, ফলাফলের ইতিবাচক চিত্রও রয়েছে। বোর্ডের অধীন মাত্র তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করেছে। এর মধ্যে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে ৪৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে। খুলনার খালিশপুরের নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৬১ জন এবং চুয়াডাঙ্গার ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৩ জন পরীক্ষার্থীও শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে।
একদিকে ১৬টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ অকৃতকার্য, অন্যদিকে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস—যশোর শিক্ষা বোর্ডের এবারের এইচএসসি ফলাফলে শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।