ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়তে বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেন আরো সহজ ও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেনে কোনো ফি বা চার্জ দিতে হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর বনানী কাঁচাবাজারে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার করে পণ্য কেনাকাটার উদ্বোধন এবং এর মাধ্যমে লেনদেন পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্যাশলেস বাংলাদেশ ও ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকারের উদ্যোগের আওতায় কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে বিনা ফি ও চার্জে। এতে লেনদেনের জন্য সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত কোনো অর্থ দিতে হবে না।
এর আগে, গত ১০ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি (আইআরএফ) শূন্য নির্ধারণ করে। নতুন এ ব্যবস্থা ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। এর ফলে বাংলা কিউআর লেনদেনে অর্থ প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠান অর্থ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোনো ফি বা সেবা মাশুল নিতে পারবে না।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ফুসকা বিক্রেতা, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল আর্থিক সেবার আওতায় আনা হবে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ফুটপাতের বিক্রেতা ও ছোট ব্যবসায়ীরা যেকোনো ব্যাংক বা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের হিসাবের মাধ্যমে কিউআর কোড ব্যবহার করে সহজে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। এতে নগদ টাকা বহনের প্রয়োজন কমবে এবং লেনদেনের প্রক্রিয়া আরো সহজ ও দ্রুত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলা কিউআর ব্যবস্থার বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কারিগরি চ্যালেঞ্জ বা সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।
বিশ্বের অনেক উন্নত ও দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে নগদবিহীন লেনদেন সহজ ও নিরাপদভাবে চালু রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকও আন্তর্জাতিক এই চর্চাকে দেশে ব্যাপকভাবে চালু করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সব মার্চেন্ট পয়েন্টে নিজস্ব বা প্রোপ্রাইটারি কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর চালুর নির্দেশ দিয়েছিল। তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের নিজস্ব কিউআর সরিয়ে বাংলা কিউআর চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত জুলাইয়ে বাংলা কিউআর ব্যবহারের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) বা মার্চেন্ট ফি সর্বোচ্চ ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে আগস্টে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি শূন্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী ও সেবাদাতাদের ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করতে প্রণোদনার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী দেশের সাধারণ নাগরিক, ব্যবসায়ী ও সেবাদাতাদের কোনো দ্বিধা ছাড়াই নগদবিহীন ও নিরাপদ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার সরকারি উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।