• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন

স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে দেশের ১৪ কোটি মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭ Time View
Update : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

দেশের প্রধান শহরগুলো আবাসন ব্যবস্থার দিক থেকে তুমুল সংকটে পড়তে যাচ্ছে। একই সঙ্গে জলবায়ু সহনশীল নগর পরিকল্পনার অভাভে মানুষ পুরপুরি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবীদরা। তারা বলেন, জলবায়ু সহিষ্ণু পরিকল্পনায় নগরীতে বসবাসরত ৭ কোটি ৩৫ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে রয়েছেন। পাশাপাশি ঢাকা-চট্রগ্রামের ওপর জনসংখ্যার চাপ কমানো না গেলে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১৪ কোটি মানুষ ঝুঁকিতে পড়বে। যা দেশের মোট জন্য সংখ্যার ৬৮ শতাংশ।

আজ পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত “বাংলাদেশের নগর জলবায়ু সহিষ্ণুতা ও ন্যায্য রুপান্তর” শীর্ষক এক সেমিনারে এসব বিষয়ে আশষ্কা করেছেন আলোচনকরা। সেমিনারের আয়োজক ইউথ ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দূর্যোগমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ, বিডাব্লিউজিইডির সদস্য সচিব হাসান মেহেদী, শিক্ষক, গভেষকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বছরজুড়ে ঢাকা-দিল্লির মধ্যে বায়ুদূষনের শীর্ষ অবস্থান দখল নিয়ে টানাটানি হয় উল্লেখ করে আলোকরা বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণে ইটভাটা, নির্মাণখাতের ধুলা, শিল্পকারখানা ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির ধোয়া ঢাকার বায়ুকে দূষণ করছে। এর থেকে বাঁচতে আলাদা আলাদা নগর পরিকল্পনা জরুরী।

অদূর ভবিষ্যতে ঢাকার জলবায়ু লবনাক্ততার ঝুঁকিতে উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, বর্জ্য ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ পরিকল্পনামাফিক না হলে সংকট আরও দ্রুত এগিয়ে আসবে। বিশেষ করে,  ঢাকা-চট্রগ্রাম শহরে দৈনিক ১১ হাজার টন বর্জ হয়। এতে দুই শহরে বায়ুদূষণ ঢেকে যায়। এসব বর্জ যথাযথ প্রক্রিয়ায় রিসিকেল করলে খরচ কমে পূনর্ব্যবহার নিশ্চিত করা যেত। এছাড়া জ্বালানি ব্যবস্থাপনার পেছনে বাৎসরিক ব্যায় প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। নতুন করে অতিরিক্ত দামে সরকারের এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী বলে মনে করেন পরিবেশবাদীরা।

‎পানি।ব্যবহারে স্বচেতনতা বৃদ্ধি ও কারখানার বর্জ নদীতে অপসারণ বন্ধের দাবি জানিয়ে বজতারা আরও বলেন, ঢাকা-রাজশাহী-খুলনা ও চট্রগ্রাম ওয়াসার দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মিলিয়ন লিটার। এসব পানির চাহিদা মিটাতে গিয়ে ইতিমধ্যে ভূগর্বস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ-গাজীপুর এলাকা ভূমি ধ্বসের ঝুঁকি বেড়েছে বহুগুণ। ফলে জলবায়ুর পরিবর্তন ও দেশের পরিবেশের দ্রুত পরিবর্তনে দ্রুত পদক্ষের নেয়ার আহবান জানান তারা।

দেশের পরিবেশ রক্ষায় পরিবহন,  কৃষি, কার্বন সাশ্রয়ী উন্নয়নে অর্থ বরাদ্ধসহ বেশ কয়েকটি পরামর্শ দেয়া হয়। এর মধ্যে আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে জলবায়ুর দরকষাকষির কৌশলে বাংলাদেশ অবস্থান ও দাবি আদায়ে আনড় থাকা, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড এর নূন্যতম ৩.১ ট্রিলিয়ন ডলার সরবরাহ করা, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড অনুদানের ভিত্তিতে তহবিল নিশ্চিত করা, প্রযুক্তি হস্তান্তরে শুল্ক সুবিধা নিশ্চয়তা ও প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে সবুজ শ্রম অভিবাসন বাজারে নিশ্চিত করা।

‎


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category