বিশ্বের ১৬৭টি দেশে ১ কোটি ৫০লাখ কর্মী রয়েছেন যারা দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। নীলফামারী জেলা থেকে বছরে তিন লাখ কর্মী যাওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৩৫হাজার কর্মী যাচ্ছেন বিদেশে। যা হতাশাজনক।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র(টিটিসি) য়ে ‘দক্ষতা উন্নয়ন ও নিরাপদ অভিবাসন’ শীর্ষক সেমিনারে এই তথ্য জানানো হয়.
টিটিসি নীলফামারীর আয়োজনে প্রতিষ্ঠানটির সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। এতে সভাপতিত্ব টিটিসি অধ্যক্ষ মোঃ মাসুদ রানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(অর্থ ও প্রশাসন) ফজলুর রহমান মোহসিন।বক্তব্য দেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল হক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক নীলফামারী শাখা ব্যবস্থাপক নুর জাহান বেগম ও প্রবাসী সবুজ খন্দকার।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন টিটিসি এর ইন্সট্রাক্টর (মেকানিক্যাল) শরিফুল ইসলাম।
সেমিনারে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল হক বলেন, চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশ যাওয়ার জন্য ১ হাজার ২’শ ৯৫জন নিবন্ধন করেছেন এরমধ্যে নারী রয়েছেন মাত্র ২’শ জন।
তিনি জানান, সরকারী ভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য অনেক সুযোগ রয়েছে। অথচ সরকারী সুযোগ কাজে না লাগিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকে। এমন ৩৫টি অভিযোগের মধ্যে ১৫টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার পরও যদি কোন প্রবাসী হয়রানীর শিকার হন, কাজ না পায় এ রকম অভিযোগ আসলে কর্মের ব্যবস্থাসহ ওই এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে।
টিটিসি অধ্যক্ষ মাসুদ রানা বলেন, টিটিসিতে দক্ষতা অর্জনের জন্য অনেক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। হাতে কলমে শিখে বিদেশে যে পারে যে কেউ। টেকনিক্যাল ছাড়াও বিভিন্ন ভাষা প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এখানে।
বিদেশ যেতে সরকারী যেসব সুযোগ সুবিধা রয়েছে সব পাওয়া যায় এখানে।
তিনি বলেন, আমি আহবান জানানো টিটিসি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ হয়ে বিদেশ যেতে। এরফলে বৈধ ভাবে যাওয়া যাবে এবং বিদেশে গিয়ে যথাযথ ভাবে কর্ম পাবে এবং অনেক বেশি স্যালারিও পাবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, দক্ষতার কোন বিকল্প নেই। কাজ জেনে বিদেশে গেলে নিজে যেমন লাভবান হবেন তেমনি দেশেও রেমিট্যান্স আসছে। সরকার টিটিসির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এসব কেন্দ্রগুলোতে এসে শিখতে হবে। দালাল চক্রের মাধ্যমে বিদেশে না গিয়ে বৈধ ভাবে প্রবাসী হতে হবে, কারণ ঝুঁকি নিয়ে গেলে ওই ব্যক্তি নিজে যেমন অনিশ্চয়তায় পড়লো তেমনি পরিবারকে বিপাকে ফেললো।
তিনি বলেন, বৈধ ভাবে বিদেশে যেতে এবং প্রতারিত যাতে না হয় এজন্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর শাখা অফিস নীলফামারীতে করা যায় কি না সেটি সরকারের উচ্চ মহলে জানানো হবে।
টিটিসি সুত্র জানায়, বিদেশে গমনেচ্ছু ১৩০জনকে তিনদিনের বিশেষ একটি প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে টিটিসিতে। প্রশিক্ষণ নিয়ে জনশক্তি কার্যালয়ে ফিঙ্গার দিয়ে তারা বিদেশে যাবেন। ১৩০জনের মধ্যে ১’শ জন পুরুষ এবং ৩০জন নারী রয়েছেন।