• বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ন

বাবার স্বপ্ন পূরণ করতেই জজ হয়েছি: রুমান

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি / ৫৫ Time View
Update : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

“আমি জীবনে ইচ্ছা করলেই অনেক কিছু হতে পারতাম। কিন্তু আমি চেয়েছি আমার পঁচাশি ঊর্ধ্ব বয়সী বাবা যেন আমার সফলতা উপভোগ করার সুযোগ পান। আল্লাহ আমার সে স্বপ্ন পূরণ করেছেন।”

কথাগুলো বলছিলেন সদ্য প্রকাশিত ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ৬ষ্ঠ স্থান অধিকার করে সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া মো: মহিউদ্দিন (রুমান)। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থী।

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার চরমোহনা গ্রামের সন্তান রুমানের এই পথচলা সহজ ছিল না। গ্রামে ছিলোনা শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ। স্কুলজীবনে এক শিক্ষকের কাছে আইন পড়ার অনুপ্রেরণা পান। পরে কলেজের এক শিক্ষকের কথায় মনে জাগে জজ হওয়ার স্বপ্ন। পরবর্তীতে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় ‘খ’ ইউনিটে ৮৭তম হয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন রুমান।

বিজেএসের ​রেজাল্ট প্রকাশের মুহূর্তের কথা উল্লেখ করে রুমান বলেন, “অনুভূতি তো আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আনন্দে মা আর ছোট বোনকে জড়িয়ে ধরি। বাবা বাইরে ছিলেন, তাকে ফোন করে জানাই। তারা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে করতেই শেষ!”

বাসায় না গিয়ে হলেই ঈদ কাটানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই প্রথম পরিবার বন্ধুবান্ধব ছেড়ে একা একা হলে রোজার ঈদ কাটিয়েছি। কারণ ঈদের কিছুদিন পরই রিটেন ছিল। সেই সময়টা একটু কষ্টের ছিল। তবে আলহামদুলিল্লাহ সেই স্যাক্রিফাইস কাজে দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি একটু অমনোযোগী হয়ে পড়লেই ভাবতাম আমার জজ হওয়াটা শুধু নিজের জন্য না, আমার বাবা-মায়ের জন্যই বরং বেশি জরুরি। তাদেরকে সম্মানিত করাটা আমার অন্যতম লক্ষ্য ছিল। এভাবেই নিজেকে সবসময় মোটিভেটেড রাখতাম।”

ঈদের ছুটি বিসর্জন দেওয়া আর নির্ঘুম রাত কাটানোর সেই আত্মত্যাগ আজ বৃথা যায়নি। মেধার স্বীকৃতি আর বাবা-মায়ের দোয়ায় রুমান আজ সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী জজ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category