• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ন

জাকসুর উদ্যোগে ২১টি হলে কম্পিউটার বিতরণ

জাবি প্রতিনিধি / ৭ Time View
Update : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলে একটি করে কম্পিউটার বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার বিকেল ৪টায় জাকসু কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট হল সংসদের প্রতিনিধিদের হাতে এসব কম্পিউটার তুলে দেওয়া হয়।

জাকসু নেতৃবৃন্দ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কম্পিউটার ব্যবহার করতে হয়। অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি, প্রেজেন্টেশন প্রস্তুত, এক্সেলসহ বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রয়োজনীয় কাজের জন্য কম্পিউটার বা ল্যাপটপের প্রয়োজন হলেও অনেক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা ল্যাপটপ কেনার সামর্থ্য নেই। ফলে এসব কাজ করতে তাদের বন্ধু বা অন্যের ডিভাইসের ওপর নির্ভর করতে হয়।

এ সমস্যা কিছুটা কমিয়ে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কাজে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যেই প্রতিটি আবাসিক হলে একটি করে কম্পিউটার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানায় জাকসু।

জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পরপরই ল্যাপটপ বা কম্পিউটার কিনতে পারেন না। একটি ডিভাইস কেনার জন্য অনেকের এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এ সময় তাদের অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশনসহ বিভিন্ন একাডেমিক কাজে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়।

তিনি বলেন, হলগুলোতে দেওয়া কম্পিউটার ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা ওয়ার্ডে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি, পাওয়ারপয়েন্টে প্রেজেন্টেশন প্রস্তুত এবং এক্সেলের ছোটখাটো কাজসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় একাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।

জাকসুর পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, হলগুলোতে স্থাপিত এসব কম্পিউটার শিক্ষার্থীদের নিয়মিত একাডেমিক কাজে ব্যবহারযোগ্য হবে এবং ব্যক্তিগত ডিভাইস না থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে হল সংসদের প্রতিনিধিদের এসব কম্পিউটারের যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়, যাতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা এর সুবিধা নিতে পারেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর এখনও ব্যক্তিগত ল্যাপটপ বা কম্পিউটার নেই। ফলে তাদের বিভিন্ন একাডেমিক কাজের জন্য বন্ধুদের কম্পিউটারের ওপর নির্ভর করতে হয়। নিজের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, থিসিস লেখার সময় তাকেও বন্ধুর কম্পিউটার ব্যবহার করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, হলে কম্পিউটার দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা এখন প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানে গিয়ে নিজেদের একাডেমিক কাজ করতে পারবেন। এতে অন্যের কাছে কম্পিউটার চাওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে তাদের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

জাকসুর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কাজে কম্পিউটারগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে সক্ষমতা বাড়লে প্রতিটি হলে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের বিষয়েও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category