আদালতের নির্দেশে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবারো কারাগারে ফেরত পাঠিয়েছে পাক সরকার।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোররাতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের বেসরকারি শাফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, একদল বিশেষজ্ঞ- যার মধ্যে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ চিকিৎসক ছিলেন- ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তাকে ‘সম্পূর্ণ সুস্থ’ বলে ঘোষণা করেছেন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় ইমরান খানের বোন উজমা খান উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট এক আদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে একটি স্বাধীন মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেন। গত ১০ আগস্টের একটি কার্ডিয়াক বোর্ডের পর্যালোচনার ভিত্তিতে আদিয়ালা জেল সুপারের গত সোমবারে (১৭ আগস্ট) জমা দেওয়া প্রতিবেদনের পর সুপ্রিম কোর্ট এই আদেশ জারি করেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, আদিয়ালা কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমরান খানের রক্তচাপ ওঠানামা করছিল এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না করতে পারার কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন।
যদিও সরকার পক্ষ থেকে আদালতের ওই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত শুক্রবার ভোর রাতে তা বাস্তবায়ন করা হয়। হাসপাতালের আশপাশে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন রেখে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
ইমরান খানের পরিবার ও তার দলের পক্ষ থেকে তার শারীরিক অবস্থা, বিশেষ করে ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছিল। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে নানা মামলায় বন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এই অলরাউন্ডার ও রাজনীতিবিদ। তবে তিনি ও তার দল বরবরাই এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।