ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতাকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদের ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে সংগঠনের নাতাকর্মীরা। এর আগে নারায়ণগঞ্জে সিফাত বাহিনীর হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুব আন্দোলনের বন্দরের এই নেতা খুন হন। ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে বন্দরের মদনপুর এলাকায় মহসড়ক অবরোধ করেন তারা।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম শেখ জানান, আধা ঘণ্টার অবরোধের কারণে মহসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজট দেখা দেয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বৃহস্পতিবার রাতে বন্দরে রিকশার গ্যারেজ লুটের ঘটনার মামলা তুলে না নেওয়ার জেরে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের বন্দর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান বুলবুলকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। নিহত বুলবুল একই এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে।
মুজাহিদুলকে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বন্দরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাতে স্থানীয় লোকজন ও ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত শেখ সিফাত ও তাঁর স্বজনদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এলাকাবাসী জানান, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে যোগ দেওয়ায় বুলবুলের গ্যারেজে সিফাত বাহিনী লুটপাট করে। এ ঘটনায় সিফাতকে প্রধান আসামি করে বন্দর থানায় একটি মামলা হয়। মামলা তুলে নিতে সিফাত প্রায় হুমকি দিতেন বুলবুলকে।
বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকায় বুলবুলকে একা পেয়ে মামলা তুলে নিতে ফের হুমকি দেন সিফাত ও সঙ্গে থাকা লোকজন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে কুপিয়ে জখম করে ফেলে পালিয়ে যায় তারা। পরে আশেপাশে লোকজন বুলবুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জামাল উদ্দীন জানান, ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল হত্যা মামলায় সিফাত বাহিনীর প্রধান শেখ সিফাতসহ ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।আইনানুগ কার্যক্রম শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।