• বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ন

তেহরানের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযানের ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপাচ্যে আমেরিকান ঘাটিগুলো গুড়িয়ে দেয়া ইরানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিরোধ বাঁধে যুদ্ধবাজ আমেরিকার। এর জের ধরে এইবার তেহরানের বিরুদ্ধে স্বরণকালের বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসা দেশগুলোর জন্য ভবিষ্যতে ‘কঠোর পরিণাম’ ভুগতে হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

গত কাল বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় অভিযানের ঘোষণা এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানকে আমি ছাড়া আর কেউ চুক্তির জন্য এত সুযোগ-সুবিধা, এত ছাড় দেয়নি। এটা তাদের জন্য দুঃখজনক যে তারা চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে আজ আমি ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণা করছি। এ অভিযান এতটা বিধ্বংসী হবে যে এর আগে কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন অভিযান হয়নি। এটা হবে একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধ এবং এর জেরে ইরান আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে অভূতপূর্ব মাত্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।”

“আমি আরও ঘোষণা করছি যে (অভিযান চলাকালে) কোনা দেশ যদি তার অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য, বিমান বন্দর অথবা সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যকে ইরানকে কোনো প্রকার সহযোগিতা প্রদান করে, সেক্ষেত্রে সেই দেশকেও ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি ভুগতে হবে। তেল চোরাচালান, পণ্য বিনিময় লাইন, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন, ভুয়া কোম্পানি – এই সবকিছু এখন থেকে বন্ধ হতে হবে।”

ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে অবশ্য ইরানের কোনো বন্ধু বা মিত্র রাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ ব্যাপারে তিনি বলেছেন, “আমি যাদের প্রতি ইঙ্গিত করেছি, তারা তা বুঝেছে।”

উল্লেখ্য, চীন, ভারত, তুরস্ক, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান— এই ৬ দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা নিষেধজ্ঞায় জর্জরিত ইরানের সবচেয়ে বৃহৎ ব্যবসায়িক অংশীদার। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার আগে এ ছয় দেশের সঙ্গেই অধিকাংশ বাণিজ্য করত ইরান।

বুধবারের পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, “সামনে একটি সর্বাত্মক অর্থনৈতিক যুদ্ধ আসছে। আমরা চাই, সমস্ত মিত্র-অংশীদাররা যেন ইরান নামের হুমকিকে বিচ্ছিন্ন ও পরাজিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকে। এই উন্মাদরা এখন কোনঠাসা অবস্থায় আছে এবং সামনে আমরা যেসব ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি— সেসবের জেরে তাদের বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রকল্প পঙ্গু হয়ে যাবে। ইরান কখনও, কোনো দিন পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।”

বুধবারের পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, “সামনে একটি সর্বাত্মক অর্থনৈতিক যুদ্ধ আসছে। আমরা চাই, সমস্ত মিত্র-অংশীদাররা যেন ইরান নামের হুমকিকে বিচ্ছিন্ন ও পরাজিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকে। এই উন্মাদরা এখন কোনঠাসা অবস্থায় আছে এবং সামনে আমরা যেসব ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি— সেসবের জেরে তাদের বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রকল্প পঙ্গু হয়ে যাবে। ইরান কখনও, কোনো দিন পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।”

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান ‘অপরেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে মার্কিন বাহিনী। গত ৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এপিক ফিউরি’র সমাপ্তি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং গত ৬ মাসে দু’টি মাঝারি মাত্রার যুদ্ধবিরতিও হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানে মধ্যে। তবে এখন পর্যন্ত সংঘাত বন্ধ হয়নি।

সূত্র : এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category