এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জন করেও নাছিমা কাদির মোল্লা কলেজকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড। প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
রোববার (১৬ আগস্ট) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খানের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। সোমবার (১৭ আগস্ট) এই তথ্য জানাজানি হয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নরসিংদী সদর উপজেলার নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে ‘নিয়ম-বহির্ভূত কৌশল’ অবলম্বনের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযোগটি শিক্ষা বোর্ডের নজরে আসে।
অভিযোগের সার্বিক সত্যতা যাচাই এবং প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন তথ্য চেয়েছে শিক্ষা বোর্ড। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী, নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী, এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী এবং এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণকারী শিক্ষার্থীদের তথ্য দিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের পাঠদান, বিভাগ এবং অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার অনুমতিপত্রও, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশ অনুযায়ী, এসব তথ্যসহ প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে ওঠা অভিযোগের কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।
চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪৮৩ জন শিক্ষার্থী টেস্ট পরীক্ষায় বসলেও মূল পরীক্ষায় বসেছে ৩৮২ জন শিক্ষার্থী; সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে।
বাকি ১০১ জন কেন এসএসসি পরীক্ষায় বসতে দেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ, এর কারণ হিসেবে ওই শিক্ষার্থীরা টেস্ট পরীক্ষায় পাস করতে না পারার কথা জানায়।
স্কুলের একজন সাবেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, এ স্কুলের টেস্ট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র এমনভাবে করা হয়, যাতে যেই পরীক্ষার্থী এ প্লাস পাবে, শুধু সেই পাস করতে পারে, বাকিরা ফেল করে।