• সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২২ অপরাহ্ন

পণ্যের দামে ভোক্তার নাজেহাল অবস্থা

বাণিজ্য ডেস্ক / ১৯ Time View
Update : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

আমদানির প্রভাবে দেশের বাজাগুলোতে কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা সহনীয় মাত্রায় নেমেছে। এতে বোক্তা পর্যায়ে কিছুটা স্বত্বি মিললেও অন্যসকল নিত্যপণ্যে নাভিশ্বাস পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। বিশেষ করে সরবরাহ সংকট ও বাড়তি খরচের অজুহাতে ব্রয়লার মুরগি, সোনালী মুরগি এবং চাষের মাছের দাম প্রতিনিয়ত ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। পাশাপাশি এক লাফে ১০ টাকা বেড়ে ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। সব মিলিয়ে বাজারে পণ্যের দামে ভোক্তার নাজেহাল অবস্থা।

শুক্রবার (১৪ আগষ্ট) রাজধানীর ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

বাজারগুলোতে এখন অধিকাংশ সবজির দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকার উপরে। মানভেদে প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থাকে ১৪০টাকা। মানভেদে দেশি শসা ১২০ থেকে ১৫০টাকা, করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০টাকা কেজি দরে। গাজর (দেশি) ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১২০টাকা, ঢেঁড়স ৭০ টাকা থেকে ৮০, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, টমেটো মানভেদে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ধুন্দুল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, প্রতিটি পিস জালি কুমড়া ও লাউ আকারভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৫৫ থেকে ৬০টাকা, রসুন (দেশি) ১৫০ টাকা, দেশি আদা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে পণ্যের বাড়তি দামে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনে সংসার চালাতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে, খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে বেশি দামে পণ্য কেনায় অনেকটা বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কথায় উঠে এসেছে বাজারের চাপের বাস্তব চিত্র।

এদিকে মুরগি-ডিম-মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, খামারে উৎপাদন কম ও পাইকারি পর্যায়ে দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঘাটতির প্রভাবে গত সপ্তাহের মত চলতি সপ্তাহেও উর্ধ্বমুখী রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়, আকারভেদে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়, গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে টাকায়। এছাড়া প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা। হালি হিসেবে ডিমের দাম এখন ৫০ টাকা বা তারও বেশি।

চলতি সপ্তাহে চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিকেজি মোটা চাল ৫২-৫৫ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭৮ টাকা ও কাটারি নাজির ৮৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

নিউমার্কেট বাজার করতে আসা গৃহিণী শাহানুর বেগম বলেন, “একসময় বাজারে গিয়ে দাম বেশি মনে হলে অন্য দোকানে খুঁজতাম, এখন প্রায় সব দোকানেই একই অবস্থা। এক কেজি সবজি কিনতে গেলেও দুই-তিন ধরনের সবজি নেওয়ার ইচ্ছা বাদ দিতে হয়। ডিমের দাম হিসাব করে কিনতে হচ্ছে, মাছ-মাংস তো এখন বিশেষ দিনের খাবারের মতো হয়ে গেছে। বাচ্চাদের জন্য পুষ্টিকর খাবার দিতে চাই, কিন্তু প্রতিদিনের বাজার খরচের সঙ্গে সেটা মেলানো কঠিন। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় যখন সন্তান কোনো খাবার চাইলে শুধু দাম বেশি বলে তাকে ফিরিয়ে দিতে হয়। বাজারের ওপর কার্যকর নজরদারি না থাকলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ করছি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের দিকে নজর দেন।”

বাজারগুলোতে আকারভেদে দেশি শিং ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, মলা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, টেংরা ৪০০ থেকে ৫০০টাকা, আকারভেদে রূপচাঁদা ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, বোয়াল আকার অনুযায়ী ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, এবং ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০টাকা এবং একই সাইজের চট্টগ্রামের ইলিশ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category