রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষ রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছিল। বর্তমান সরকার সেই পরিবর্তনের সূচনা করেছে। জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা এ পরিবর্তনের অন্যতম বড় সাফল্য।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সালেহ শিবলী বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যক্তি বন্দনার রাজনীতি থেকে বর্তমান সরকার পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে। অতীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কোনো ব্যক্তি উপস্থিত হলে তাকে নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বন্দনা করা হতো। বর্তমান সরকার সেই স্তূতির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেছে।
রাজনীতিতে জবাবদিহিতার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর হাম ও রুবেলার টিকা নিয়ে যে অসহনীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার দায় বর্তমান সরকারের ছিল না। তারপরও প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে সন্তান ও স্বজনহারা শোকাহত পরিবারগুলোর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কারণ, সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে নাগরিকদের প্রতি তার দায়দায়িত্ব থাকে। রাজনীতিতে এই জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি একটি বড় সফলতা।
প্রেস সচিব বলেন, সারাবিশ্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনকে ‘হানিমুন পিরিয়ড’ বলা হয়। তবে কোনো সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর তার প্রাথমিক ফলাফল পেতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগে। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার হওয়ায় জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা এবং জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে ১৮০ দিনের মাথায় সরকারের কাজের হিসাব তুলে ধরা হচ্ছে।
সরকারের বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারের ৩১ দফার প্রতিটি ধরে ধরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অতীতে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো এভাবে ধরে ধরে বাস্তবায়নের কোনো নজির দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ সফরে গিয়ে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য তুলে ধরেছেন। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের যেমন দায়বদ্ধতা থাকবে, তেমনি জনগণের প্রতিও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থাকবে। রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে থাকবে এবং নাগরিকরাও রাষ্ট্রের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে। এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী ও তার পুরো দল কাজ করে যাচ্ছে।