• সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫৮ অপরাহ্ন

নির্বিচারে দিনে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যার আহ্বান ইসরায়েলি মন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৮ Time View
Update : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
ইসরায়েলের মন্ত্রী ইতামার বেন গভির। ছবি সংগ্রহীত

মধ্যপ্রাচ্চের দখলদার ইসায়েলিদের ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির গাজার শিশুদের নিয়মিত হত্যার আহ্বান জানিয়েছেন। এতে প্রতি রাতে উপত্যাকার অন্তত ৩০-৪০ জনকে হত্যা করতে বলেছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সংখ্যার বাইরে গিয়েও আর ফিলিস্তিনিদের নির্বিচারে হত্যা চালানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন উগ্রপন্থি এই নেতা।

রবিবার (১৬ আগস্ট) প্রকাশিত এবং ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি পডকাস্ট পর্বে সাবেক এক ইসরায়েলি বন্দী রোম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে আলাপে বেন-গভির এসব মন্তব্য করেন। ব্রাসলাভস্কি ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর গাজায় বন্দি ছিলেন।

গাজাবাসীদের ওপর নিশানা করে হত্যাকাণ্ডের আহ্বান জানিয়ে বেন-গভির বলেন, “সেখানে এমন কিছু মানুষ আছে যারা বেঁচে থাকার যোগ্য নয়। তাদের বেঁচে থাকা উচিত নয়। তারা তো মানুষের পর্যায়ের মধ্যেই পড়ে না।”

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের এই প্রভাবশালী মন্ত্রী মূলত পুলিশ ও সামরিক কারাগার ব্যবস্থার দায়িত্বে রয়েছেন। তবে সরাসরি সামরিক বাহিনীর ওপর আদেশ জারি করার আইনগত ক্ষমতা তার না থাকলেও, নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে সামরিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে তার বড় ভূমিকা রয়েছে। পডকাস্টে তিনি বর্তমান ‘যুদ্ধবিরতির’ মধ্যে সামরিক অভিযান শিথিল করার নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন।

পডকাস্টের এক পর্যায়ে ইসরায়েলি সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়। তখন সাবেক বন্দি ব্রাসলাভস্কি ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড নিজ হাতে কার্যকর করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে বেন গভির তাকে বলেন, “এটি বাস্তবায়নের জন্য আমি সব কিছু করে ছাড়ব।”

এছাড়া পডকাস্টে বেন-গভির ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে গাজা ছেড়ে চলে যেতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সেখানে নতুন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের আহ্বান জানান। ব্রাসলাভস্কিকে তিনি বলেন, “পুরো গাজাকেই আমি আমাদের (ইসরায়েলের) মনে করি।” এর আগেও একাধিকবার তিনি একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে সতর্ক করে করেছেন যে, এ ধরনের গণবিতাড়ন বা জোরপূর্বক স্থানান্তর জাতিগত নিধনের শামিল হতে পারে।

উল্লেখ্য, চরমপন্থি ও বর্ণবাদী রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচিত হয়ে আসছেন ইতামার বেন-গভির। যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ সম্প্রতি তার ওপর ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে এর পরেও তার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পরও ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঘটনা ঘটে চলেছে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category