সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে স্বৈরাচারী প্রবণতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই দেশের স্বার্থে অন্যায়, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় নেত্রকোণা শহরের কালেক্টরেট মাঠে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এ সব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, বিএনপি আজ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছে বলে তাদের যৌক্তিক সমালোচনা বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। যদি কোনো সরকারের সমালোচনা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সেই সরকারও স্বৈরাচারের পথে হাঁটতে পারে। দেশের স্বার্থে অন্যায়, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সবসময় কথা বলতে হবে।
শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গত এক যুগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও শিক্ষার গুণগত মানে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। সরকার পরিবর্তনের পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি দখলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চলছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।
মাদক, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সারজিস আলম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা বিস্তার লাভ করেছিল। সরকার পরিবর্তনের পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সরকারি বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করা উচিত। দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সুযোগ-সুবিধা বণ্টন করা হলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের সঙ্গে তার সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি হবে। জনগণের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়ে পূর্ণ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অতীতের বিতর্কিত নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বলেন, খাল খননের নামে শ্রমিকের পরিবর্তে যন্ত্র ব্যবহার, প্রকল্পের অর্থ ও মাটি লুটপাটের মতো অভিযোগ উঠছে। এসব অনিয়মের দায় শুধু স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নয়, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও নিতে হবে।
জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের রায়কে অবমূল্যায়ন বা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। গণরায়ের প্রতি অসম্মান দেখানো হলে জনগণই তার জবাব দেবে।
নেত্রকোনা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইফতেকার শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এছাড়াও কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রীতম মিয়া সোহাগ, জেলা সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসমন্বয়ক ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদ রাফিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।