• শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন

চীন ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ২১ Time View
Update : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ২০২০ সালের নির্বাচনি চক্র থেকে শুরু করে চীন ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের নথি অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছে। তিনি এটিকে ‘ইতিহাসে নির্বাচনি তথ্যের সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। খবর আনাদোলুর।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে জাতিকে দেওয়া এক বিশেষ প্রাইমটাইম ভাষণে ট্রাম্প কিছু অত্যন্ত সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য অবমুক্ত করার ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন, এই তথ্যগুলো মার্কিন নির্বাচনি ব্যবস্থায় বিদেশি শক্তির ব্যাপক হস্তক্ষেপ এবং এর মারাত্মক নিরাপত্তা দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তোলে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তার প্রথম মেয়াদের অর্থাৎ ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নীতিই ছিল ট্রাম্প-বিরোধী অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব পক্ষকে উসকে দেওয়া ও কাজে লাগানো। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ২০২০ সালের নির্বাচনে তার ভোট কমিয়ে দেওয়া, তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা অথবা তার পুনঃনির্বাচন ঠেকানো।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরো অভিযোগ করেন, চীনের এই নির্বাচনি হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত সিআইএ এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ)-এর ডজনখানেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন তার প্রাত্যহিক ‘প্রেসিডেন্টশিয়াল ব্রিফিং’ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গোপন রাখা হয়েছিল।

এছাড়া, মার্কিন যেসব সাংবাদিক ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন, চীন সরকার তাদের চিহ্নিত করে বিপুল অর্থের বিনিময়ে আরো নেতিবাচক প্রতিবেদন লেখানোর চেষ্টা করছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

একটি গোয়েন্দা মূল্যায়নের সূত্র ধরে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুরা- যার মধ্যে রাশিয়া, চীন, ইরান, উত্তর কোরিয়াসহ বেশ কিছু অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠী রয়েছে- তাদের মার্কিন নির্বাচনি অবকাঠামোকে ঝুঁকিতে ফেলার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে।”

ট্রাম্প দাবি করেন, এই বিষয়গুলো এমন একটি নির্বাচনি ব্যবস্থাকে উন্মোচন করে যা ‘এতটাই ভাঙা ও এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ’ যে কেউ এটিকে কোনোভাবেই রক্ষা করতে পারবে না। তিনি এটিকে ‘রক্ষা করার অযোগ্য’ বলে ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, “শত শত কোটি মার্কিন ভোটারের ফাইল বিদেশি সরকারের হাতে রয়েছে।”

ভোটার তালিকায় লাখ লাখ মৃত ব্যক্তি ও অ-নাগরিকদের নাম সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এত কিছুর পরেও দেশব্যাপী ভোটার আইডি বা নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র যাচাইয়ের কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই।

ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেমের সাইবার নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক দাবি করে তিনি বলেন, “হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিন এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্রিফ করবেন। আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নর, সিনেটর এবং কংগ্রেস সদস্যদের সম্ভাব্য সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবহিত করছি।”

কংগ্রেসে আটকে থাকা তার পছন্দের একটি বিলের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প যুক্তি দেন, “তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, নির্বাচনি নিরাপত্তার এই সংকট মোকাবেলায় কংগ্রেসকে অবশ্যই ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাস করতে হবে।” একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সব ভোটারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category