ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে টানা ষষ্ঠ রাতের মতো বড় ধরনের বিমান ও নৌ-হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আনাদোলুর।
সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন পূর্বাঞ্চলীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ৯ টা ৪০ মিনিটে এই সর্বশেষ ধাপের হামলা সম্পন্ন হয়। এবারের অভিযানে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটি, সামরিক রসদ অবকাঠামো এবং নৌ-সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউজের নির্দেশনায় এই অভিযান চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, “বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইরানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ও তাদের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতেই এই পদক্ষেপ।” বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা অত্যন্ত সতর্ক ও যুদ্ধপ্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে বলেও জানানো হয়।
সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি শান্তি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু সেই চুক্তি ভেঙে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে হরমুজ প্রণালিতে।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট মার্কিন হামলার যৌক্তিকতা দাবি করে বলেন, “ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে। ফলে তারা নিজেই এই পরিণতি ডেকে এনেছে।”
এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার থেকে ইরানি বন্দরগামী ও বহির্গামী সব ধরনের জাহাজের ওপর কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকম জানিয়েছে, অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করা তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজকে তারা ফিরিয়ে দিয়েছে, নির্দেশ অমান্য করায় একটি জাহাজকে অচল করেছে এবং অন্য একটি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে সফল দাবি করে বলেন, “আমরা ইরানে বড় জয় পাচ্ছি। খুব শিগগির দেশবাসী এই পরিশ্রমের সুফল দেখতে পাবেন।”
অন্যদিকে, এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বাইরেও বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানছে, যা স্পষ্টত ‘যুদ্ধাপরাধ’। এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদের চরম লঙ্ঘন বলেও দাবি করেছে ইরান।