• রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন

বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা বেড়ে ৫ শতাংশ হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২১ Time View
Update : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

দীর্ঘদিনের জোরালো দাবি প্রেক্ষিতে বস্ত্রখাত ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নির্ভরযোগ্য এই খাতে বিশেষ নজর দিয়ে এবার নগদ সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে দেশি সুতা বা কাপড় ব্যবহারে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তার হার বর্তমানের ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

নানান চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা বস্ত্র খাতে সরকারের এ সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা।

সরকারের এ নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশি বস্ত্রকলগুলো যেমন চাঙা হবে, তেমন তৈরি পোশাক রপ্তানিতেও নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রপ্তানিকারকদের এ নতুন সুযোগ ও বাড়তি প্রণোদনা নেওয়ার আগে অবশ্যই দেশি উৎস থেকে সুতা বা কাপড় সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। নতুন এ বর্ধিত সুবিধা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে জরুরি সাক্ষাৎ করে।

বৈঠকে বিটিএমএ নেতারা দেশি সুতা ও কাপড়ের ব্যবহার উৎসাহিত করতে এবং এ খাত টিকিয়ে রাখতে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য নগদ সহায়তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করাসহ মোট ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। ব্যবসায়ীদের যুক্তি ছিল, দেশি সুতা ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্প আরও শক্তিশালী এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

বস্ত্র খাতের অতীত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আড়াই বছর আগেও স্থানীয় সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানির বিপরীতে ৪ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হতো।

তবে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এ সহায়তার হার কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছিল। এর মাত্র ছয় মাস পর সেই সহায়তা আরও কমিয়ে মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। ফলে দেশি সুতা ও কাপড়ের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category