টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতীয় উজানের পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে।
প্রশাসনের থেকে জানানো হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই পানি আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ঘরে কোমর পর্যন্ত পানি ওঠে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা প্রয়োজনীয় আসবাব, কাপড়, মূল্যবান জিনিস ও গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে শুরু করেন। তাদের অনেকে স্বজনদের বাড়িতে, অনেকে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান নিয়েছেন।
বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আবু জাহেরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। পরে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে মাইকিং করে প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়।
এদিকে, হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠেছে। সড়কের অনেক অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পানি আরো বাড়লে সড়কটিতে সম্পূর্ণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সঙ্গে মিরপুর ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম বলেন, “ইতোমধ্যে অন্তত ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আমরা কন্ট্রোল রুম চালু করেছি ও ঘটনাস্থলে রয়েছি। দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা সচেষ্ট রয়েছি।”