ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো আরও তিন যুদ্ধজাহাজ। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ও বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফিক দিবসে কলকাতার মাটিতে দেশিয় প্রযুক্তিতে তৈরী জাহাজগুলোর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদি। যুদ্ধজাহাজগুলো আইএনএন দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধক। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর আজই আন্দামানের উদ্দেশে রওনা দেবে আইএনএস দুনাগিরি ও আইএনএস অগ্রয়।
রবিবার (২১ জুন) গার্ডেনরিচে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরে নতুন যুদ্ধজাহাজগুলো উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আরএন রবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
তিন যুদ্ধ জাহাজের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদি বলেন, “আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে পশ্চিমবঙ্গে আসতে পেরে আমি গর্বিত। ভারতের পুনর্জাগরণে গতি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। নৌবাহিনীতে আজ যুক্ত হলো আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস সংশোধক এবং আইএনএস অগ্রয়। আজ বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফিক দিবস, আর আজই আধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক জাহাজের সূচনা হলো।”
তিনি আরো বলেন, “নৌবাহিনী সক্ষম না হলে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। ভারত এখন আত্মনির্ভর, সুরক্ষিত। বাংলা থেকেই আজ আত্মনির্ভর ও সুরক্ষিত ভারতের কার্যক্রম হচ্ছে। ভারত কেবল ক্রেতা নয়, নির্মাতা হতে চায়। আর দেশ যেদিন নির্মাতা হবে, সেদিনই বিশ্বমঞ্চে নির্ণায়ক হবে।”
উদ্বোধন হওয়া তিনটি জাহাজই ভারতীয় প্রযুক্তি ও ডিজাইনে তৈরি। জাহাজগুলো সমুদ্র যুদ্ধের পাশাপাশি হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ ও অ্যান্টি-সাবমেরিন (সাবমেরিন বিধ্বংসী) ক্ষমতাসম্পন্ন।
আইএনএস সংশোধক: এতে হালকা ওজনের টর্পেডো, রকেট লঞ্চার রয়েছে। ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম জরিপ জাহাজ। উপকূলীয় ও গভীর সমুদ্রে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ এবং প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে এটি।
আইএনএস দুনাগিরি: তিন জাহাজের মধ্যে দুনাগিরি প্রজেক্ট ১৭এ স্টেলথ ফ্রিগেটগুলোর একটি। অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সেন্সরে সজ্জিত এই ফ্রিগেট ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। যা ভূমি থেকে ভূমি এবং ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপ করতে সক্ষম।
আইএনএস অগ্রয়: সমুদ্র তীরবর্তী অংশ এবং গভীর সমুদ্রে সার্ভে করতে পারে। অত্য়াধুনিক সার্ভে সিস্টেম রয়েছে। আর্নালা শ্রেণির চতুর্থ অ্যান্টি সাবমেরিন যুদ্ধজাহাজ। সমুদ্রের নিচ থেকে আসা যেকোনো হুমকি মোকাবিলার জন্য টর্পেডো ও দেশীয় রকেট লঞ্চারে সজ্জিত।
এর আগে শুক্রবার নৌবাহিনীর তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, জাহাজগুলো ডিজাইন করেছে নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো। নির্মাণকাজ করেছে কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)।
প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে উদ্বোধনের পর সমুদ্রে একযোগে কাজ চালাবে জাহাজগুলো। দেশের জলসীমা রক্ষায় এই তিন জাহাজ নৌবাহিনীর ভরসার হয়ে উঠতে চলেছে। তিন জাহাজ নির্মাণে আত্মনির্ভর ভারতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। জাহাজগুলো নির্মাণে ব্যবহৃত সামগ্রীর ৭৫ শতাংশ সম্পূর্ণ দেশীয়। জাহাজ নির্মাণকাজে ২০০টিরও বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প-সহ ভারতীয় শিল্পের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল এবং এর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।