মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতা ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেছেন, দুই দেশের মধ্যে আজই একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে ইরান স্পষ্ট করেছে, আলোচনায় অগ্রগতি থাকলেও রোববারই চুক্তি হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিকে আলোচনায় সরাসরি যুক্ত না থাকলেও পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েল। জানা গেছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা সীমিত করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের মতো বিষয়গুলো সম্ভাব্য চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে তেল আবিব।
তবে ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তার মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই ইরান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুবিধা পেয়ে যেতে পারে, অথচ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে প্রয়োজনীয় কঠোর নিশ্চয়তা নাও পাওয়া যেতে পারে।
সম্ভাব্য চুক্তিতে থাকতে পারে যেসব বিষয়
যদিও সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ খসড়া এখনো প্রকাশ করা হয়নি, বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চুক্তি কার্যকর হলে দ্রুত হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে আরোপিত কিছু নৌ-নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া তেহরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং জব্দ থাকা ইরানি সম্পদের একটি অংশ অবমুক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক এই সমঝোতায় পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত বিতর্কিত বিষয়গুলো পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বরং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে পৃথক আলোচনা চালিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থানের মধ্যে এখনো স্পষ্ট মতভেদ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে অথবা অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু তেহরান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাবে না বা ধ্বংসও করবে না। বরং নিজ দেশে সংরক্ষণ করে এর সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানোর নীতি অনুসরণ করবে।
ফলে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আশাবাদের পরিবেশ তৈরি হলেও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে দুই পক্ষের মধ্যে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সমঝোতা বাকি রয়েছে।