• শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আশাবাদে ভারাক্রান্ত বাজেট, বাস্তবায়নে শঙ্কা দেখছে ইসলামী আন্দোলন বিএনপি সরকারের বাজেট অর্থনীতিকে দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম সংঘাত থামাতে রোববার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি সই হতে পারে: রয়টার্স কীটনাশক আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেশের সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে এবারের বাজেট: অর্থমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে ১ হাজার ফুটের ব্রাজিলের পতাকা, ফাইনালে উঠলে হবে গরু জবাই দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই: গভর্নর ঘাটতি-ঋণনির্ভর বাজেট অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলবে খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা বাজেট বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান ১২ দলীয় জোটের

দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই: গভর্নর

অর্থনীতি ডেস্ক / ২০ Time View
Update : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

দেশের ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো তেমন কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য তারল্য সংকট নেই। একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

 

গভর্নর জানান, অতীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের কারণে ব্যাংকিং খাতকে প্রথমে স্থিতিশীল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে আলোচিত পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক আগে থেকেই সংকটে ছিল। আগের সরকারের নেওয়া বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় বর্তমানে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, আমাদের জানা মতে ওই পাঁচটি ব্যাংক ছাড়া অন্য ব্যাংকগুলোতে উল্লেখযোগ্য কোনো তারল্য সংকট নেই। সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ফেরতের বিষয়ে গভর্নর বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের সক্ষমতা ও ন্যায়বিচারের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হয়। কারণ কিছু মানুষের অর্থ আত্মসাতের দায় পুরোপুরি সাধারণ করদাতাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।

 

ঋণ খেলাপি বা নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন। সুদের হার বৃদ্ধি, কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনৈতিক চাপ এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে কিছু প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধে সময় লেগেছে। তাই সব ক্ষেত্রকে একইভাবে ঋণ খেলাপি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

 

বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে গভর্নর বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই বিষয়টি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। এ জন্য একটি ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স’ কাজ করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্ত ও জব্দ করতে ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে অর্থ পুনরুদ্ধারও সম্ভব হয়েছে।

 

তিনি জানান, আন্তর্জাতিকভাবে চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধারের গড় হার ২ শতাংশেরও কম এবং এ প্রক্রিয়ায় ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবুও সরকার এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

 

ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের বিষয়ে গভর্নর বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে দেশকে ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হবে। এ লক্ষ্যে ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর ফলে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড় প্রতিষ্ঠানের লেনদেনেও কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়বে এবং নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমে আসবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং এনবিআর চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category