ফেনীর ফুলগাজীতে দুই মাস বয়সী এক শিশুকে আছাড় মেরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ফুলগাজী বাজারসংলগ্ন মেম্বার কলোনির একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুটির নাম মোহাম্মদ জুনায়েদ। তার বাবা মোহাম্মদ সুলতান (৩০), নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের কিতাব আলীর ছেলে। জীবিকার প্রয়োজনে স্ত্রী রুনা আক্তারকে নিয়ে তিনি ফুলগাজীতে বসবাস করছিলেন। রুনা আক্তারের অভিযোগ, তাঁর স্বামী সুলতানই শিশুটিকে আছাড় মেরে হত্যা করেছেন। তবে সুলতানের দাবি, কোলে নিয়ে খেলার সময় অসাবধানতাবশত শিশুটি তাঁর হাত থেকে পড়ে যায়।
জানা গেছে, সুলতান দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। দুই মাস আগে তাঁদের সংসারে একমাত্র সন্তান জুনায়েদের জন্ম হয়। রুনা আক্তারের অভিযোগ, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং নেশার কারণে সংসারের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতেন না। পাশাপাশি প্রায়ই তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে কাজ শেষে বাসায় ফিরে সুলতান তাঁকে একটি পানীয় কিনে আনতে দোকানে পাঠান। তিনি ফিরে এসে দেখেন, তাঁর সন্তান অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে।
রুনা আক্তার বলেন, ‘বাসায় ফিরে দেখি আমার ছেলে কোনো ধরনের সাড়া দিচ্ছে না। আমি তাকে হাসপাতালে নিতে চাইলে সুলতান বাধা দেন। পরে অনেক চেষ্টা করে রাতেই হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসক জানান, আমার ছেলে আর বেঁচে নেই। এর আগেও কান্নাকাটি করলে শিশুটির প্রতি সুলতান বিরক্তি প্রকাশ করতেন।’
অন্যদিকে, আটক হওয়ার পর পুলিশকে দেওয়া জবানবন্দিতে সুলতান দাবি করেন, তিনি শিশুটিকে কোলে নিয়ে খেলছিলেন। এ সময় শিশুটি তাঁর হাত ফসকে মাটিতে পড়ে যায়। এরপর থেকেই শিশুটির কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তানভীর মাহমুদ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শিশুটির মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। শিশুটির বাবাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।