নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় স্কুলছাত্রীকে (৯) ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় আবদুর রহমান নামক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয় ।গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের একটি বাসা থেকে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে।
১২জুন (শুক্রবার) সকালে র্যাব আসামিকে কেন্দুয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
পুলিশ, শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে বাড়ির পাশের হাওর থেকে গরু আনতে যায় শিশুটি। এ সময় মেয়েটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন আবদুর রহিম। ফিরতে দেরি হওয়ায় শিশুটিকে খুঁজতে গাছের নিচে যান শিশুটির মা। তাকে দেখে রহিম দৌড়ে পালান।পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক দেখিয়ে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগ আছে, ঘটনার পর গ্রামের কয়েকজন মাতবর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। তারা নির্যাতিত শিশুটির পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধা দেয় ও ৫০ হাজার টাকার প্রলোভন দেখান। কিন্তু মেয়েটির পরিবার এতে রাজি হয়নি।
গত সোমবার দুপুরে মেয়েটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরদিন দুপুরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে আবদুর রহিমকে একমাত্র আসামি করে থানায় মামলা করেন।
মেয়েটির বাবা বলেন, এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করতে চাইলে গ্রামের মাতবর আবু তাহের ও আবু বক্কর মীমাংসার কথা বলে বাধা দেন। লোকলজ্জার ভয়ে আমি তখন থানা–পুলিশকে জানাইনি। আসামি রহিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
অভিযোগের বিষয় জানতে আবু তাহের ও আবু বক্করের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় সোমবার সকালে সেই দুই ব্যক্তি এলাকা ছাড়েন ।
এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি মাকসুদ বলেন, মামলায় অভিযুক্ত আবদুর রহিমকে র্যাব গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তাকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে।
শিশুটি ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে জানিয়ে ওসি আরও বলেন, গ্রাম্য মাতবর আবু তাহের ও আবু বক্কর যদি এ ঘটনায় জড়িত থাকেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।